যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঝিনাইদহ। ইতোমধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দুদকের সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে তার কাছে সম্পদ বিবরণীর তথ্য চেয়ে নোটিশ পাঠানো হবে।
অতীতের অনুসন্ধান
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয় এবং প্রতিবেদন দুদক সদর দফতরে পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই সময় দুদকের তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে সক্ষম হন।
সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমিনা বেগমের প্রভাব কমে যায়। এর পর আবারও তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। এবারের অনুসন্ধানে তার সম্পদের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে নতুন প্রতিবেদন দুদক সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আমিনা বেগমের বর্তমান কর্মস্থল যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সেখানে নতুন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।
কর্মজীবনের তথ্য
সাব-রেজিস্ট্রার আমিনা বেগমের বাড়ি মাগুরায়। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে যশোর সদরে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি ঝিনাইদহ সদরে কর্মরত ছিলেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
জীবনযাত্রার বিলাসিতা
দলিল লেখকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, আমিনা বেগম প্রতিদিন প্রাইভেটকারে মাগুরা থেকে যশোর আসেন এবং অফিস শেষে আবার মাগুরায় ফিরে যান। তার এমন বিলাসী জীবনযাত্রা তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন সদর দফতর থেকে অনুমোদিত হলে, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সম্পদ বিবরণীর তথ্য সংগ্রহ ও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হবে।

