ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সনদ কিনে ডাক্তার,নার্স !

আরো পড়ুন

সরকারি অনুমোদন এবং স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়াই যশোর জেলায় ভুয়া মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে “ডাক্তার”, “নার্স”, “ফার্মাসিস্ট” এবং “প্যাথলজিস্ট” তৈরি হচ্ছে। অল্প খরচে সার্টিফিকেট বিক্রির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ভুয়া মেডিকেল প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম

স্থানীয়দের কাছে “ডাক্তার তৈরির কারখানা” নামে পরিচিত এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকায় ডাক্তার হওয়ার সনদ মেলে। ডেন্টিস্ট, নার্স, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট ও প্যাথলজিস্ট সনদ পেতে খরচ হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। পরীক্ষার প্রয়োজন নেই, কেবল টাকা দিলেই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যশোর জেলায় ১৬টি, যা সদর, কেশবপুর, মণিরামপুর, অভয়নগর, চৌগাছা, শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

ডালিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি

রাইজিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন

মধুমতি মেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন

প্যারামেডিকেল অ্যান্ড নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর নেই। অন্য জেলা বা শহরের ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন নম্বর বা কলেজ কোড ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

প্রতারণার ধরণ ও আয়

প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করছে। উদাহরণস্বরূপ:

ডালিয়া ইনস্টিটিউট এক বছরে ৫৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তি, মাসিক বেতন এবং সনদ বাবদ প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয় করেছে।

রাইজিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ২৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা আয় করে।

বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন বছরে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা আয় করে।

রূপদিয়ার প্যারামেডিকেল অ্যান্ড নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বছরে প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় করে।

শিক্ষক ও পরিচালকদের পরিচয়

এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের অনেকেই আসলে অন্য পেশার লোক। কেউ কেউ নিজেকে মেডিকেল কলেজের শিক্ষক বা এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয় দিলেও বাস্তবে তাদের পরিচয় মেলে না। যেমন:

ডালিয়া ইনস্টিটিউট দাবি করে যশোর মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষক (সাবরিনা শবনম ও সিফাত মোস্তফা) ক্লাস নেন। কিন্তু যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নিশ্চিত করেছেন, এমন কোনো শিক্ষক তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন।

রাইজিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এ আশরাফুল আলম নামের এক ব্যক্তি ক্লাস করান, কিন্তু তিনি কোনো ডাক্তার বা মেডিকেল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন।

প্রশাসনের জবাবদিহিতা নেই

যশোর মেডিকেল কলেজ, জেলা প্রশাসক বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান চলছে। কেউ কেউ দাবি করে, তাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান একাধিক জেলায় একই নামে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিণতি

এসব প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তিরা যখন ডাক্তার, নার্স বা ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেন, তখন সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হন। অপচিকিৎসার ফলে রোগীদের জীবন হুমকিতে পড়ে।

উপসংহার

ভুয়া মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলো যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ