একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব

আরো পড়ুন

জামায়াতে ইসলামী কোনো অপরাধ করলে এবং তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে যুক্তরাজ্যের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। ওই অভ্যুত্থানে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি প্রবাসীরাও যার যার অবস্থান থেকে অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, “প্রবাসীরা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি, আমি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানাই যে, তারা যেন বাংলাদেশে ‘ইন্টেলিজেন্স রেমিট্যান্স’ পাঠানোর ব্যাপারেও ভূমিকা রাখেন। এটি দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়ক হবে এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে লাগামহীন দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলোর ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যেখানে অন্যান্য দেশে একই প্রকল্পের খরচ এক-তৃতীয়াংশে সম্পন্ন হয়, সেখানে আমাদের দেশে সময়মতো কাজ শেষ না করে ব্যয় বাড়িয়ে দেশকে লুটপাট করা হয়েছে। দুর্নীতি আমাদের জাতীয় লজ্জার কারণ।”

একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “একাত্তরে যদি আমরা কোনো ভুল করে থাকি এবং তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাইব।” তবে তিনি বাংলাদেশে ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারের সমালোচনা করে বলেন, “ব্রিটেনের কোর্ট চৌধুরী মাইনুদ্দিনের বিষয়ে যে রায় দিয়েছে, তা ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারকে ‘জেনোসাইড অব জাস্টিস’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আমাদেরকে কোনো কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা অফিসে বসতে পারিনি, কোনো বক্তব্য দিতে পারিনি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জাতির কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থেকেও আমরা বঞ্চিত হয়েছি।”

সমাজে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “জাতিগত অনৈক্য এবং দুর্নীতির কারণে আমরা জাতি হিসেবে এগোতে পারিনি। যারা সমাজ পরিচালনা করবেন, তাদের অবশ্যই পরিচ্ছন্ন হতে হবে, নতুবা সমাজ পরিচ্ছন্ন হবে না।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। আবু সালেহ ইয়াহইয়ার পরিচালনায় আয়োজনে কোরআন তেলাওয়াত করেন ইমাম উদ্দিন এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পী কামাল হোসেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার অর্ধশতাধিক সাংবাদিক এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ