যশোরের শার্শার বাগডাঙ্গা গ্রামের শহিদ আলী হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৮ অক্টোবর) শহিদের ভাই সিরাজুল ইসলাম যশোর আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহমত আলী মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে শার্শা থানার ওসিকে থানা থেকে এ বিষয়ে কোনো পূর্ববর্তী অভিযোগ আছে কিনা, তা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন, বাগডাঙ্গা গ্রামের শামসুদ্দিন মোড়লের ছেলে মতিয়ার রহমান, আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল গফুর, আরজুল্লাহর ছেলে আব্দুস সাত্তার, মৃত উসমান মোড়লের দুই ছেলে জামালা উদ্দিন ও সালাউদ্দিন, নুজুর আলীর দুই ছেলে মাহাবুর রহমান ও নাজিম এবং মৃত লাল চান লালুর ছেলে রওশন আলী।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শহিদ আলী বিএনপির কর্মী ছিলেন এবং আসামিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শহিদ আলীর সাথে আসামিদের রাজনৈতিক শত্রুতা তীব্র হয়। ২০০৯ সালের ৩ মে শহিদ আলীর একটি ছাগল আসামি মাহাবুরের ক্ষেতের ফসল খেয়ে ফেললে এ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। ওই দিন বিকেলে আসামিরা শহিদ আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। শহিদ আলী পালিয়ে একটি বিচালির গাদায় লুকালেও তাকে ধরে এনে মারধর করা হয়। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
আসামিরা শহিদকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দিলে পরে তাকে গোপনে বাগআঁড়ার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ১৮ সেপ্টেম্বর বাড়িতে মারা যান। ঘটনার সময় মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলেও আসামিদের হুমকির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
জাগো/মেহেদী

