টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সিলেটে তৃতীয় দফার বন্যার পানি কমছে না। বরং বৃহস্পতিবার সকালে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে বন্যাকবলিত মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার তুলনায় আজ সকালে সুরমা ও কুশিয়ারার সব কটি পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৮টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার উপরে, সিলেট পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার উপরে, কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে ১৫২ সেন্টিমিটার উপরে, শেওলা পয়েন্টে ৪৬ সেন্টিমিটার উপরে, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০২ সেন্টিমিটার উপরে এবং শেরপুর পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
নগরের ভেতরে বিভিন্ন এলাকা আজ সকাল পর্যন্ত জলাবদ্ধ। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। অনেকেই আবার ঠাঁই নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে। নগরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা পীযূষ শীল বলেন, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই মূল সড়ক পানিতে ডুবে যায়। এক মাসের মধ্যে তাঁর ঘরে অন্তত ছয় দফায় পানি প্রবেশ করেছে।
বিয়ানীবাজারের ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে তাদের গ্রামের ৮০ শতাংশ ঘর তলিয়ে গেছে। তৃতীয় দফার এ বন্যা গ্রামের প্রধান সড়কও ডুবিয়ে দিয়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জের বিয়ালীবাজর এলাকার বাসিন্দা শোয়েব আহমদ বলেন, ঈদের তৃতীয় দিন তাঁর ঘরে পানি উঠেছিল। এরপর ঘিলাছড়া এলাকায় এক বন্ধুর খালি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এবারও ১ জুলাই রাতে পানি বেড়ে যাওয়ায় একই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর কাল শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাগো/আরএইচএম

