নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে একদিনে ছুরিকাঘাতে দুজন নিহত হয়েছে। শনিবার (২০ জানুয়ারি) যশোর শহরতলীর শেখহাটি এবং ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড দুটি সংঘটিত হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ছোট শেখহাটি গ্রামের দিপু এলাকার ইমরান, আসাদুল ও তপুর সাথে মাংস বিক্রির কাজ করতেন। বেশ কিছুদিন আগে দিপুর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা ধার করেন ইমরান, আসাদুল ও তপু। শুক্রবার সকালে দিপু ঐ তিনজনের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করে। এ সময় তাদের সাথে দিপুর কথা কাটাকাটি হয়। শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় অজ্ঞাত ৫-৬ জন দিপুর বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে ছুরিকাঘাতে জখম করে। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত রিপন হোসেন দিপু (৩০) শেখহাটি এলাকার রফিকুল ইসলাম মনুর ছেলে।
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রিপন হোসেন দিপু মাংসের দোকানে কাজ করতো। ধার টাকা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে নিহত দিপুর গোলযোগ ছিল অনেক আগে। সেটা থেকে এই হত্যাকান্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। অনুসন্ধান চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।
এদিকে, একইদিন সকালে ঝিকরগাছায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে তৌফিক আহমেদ (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত তৌফিক ঐ গ্রামের শাহাদত মোল্লার ছেলে।
পুলিশ জানায়, সকাল ৯টার দিকে তৌফিক আহমেদ কৃষ্ণনগর গ্রামের আফিল ডিম ফ্যাক্টরির অদূরে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তৌফিক।
যশোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী জানান, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। সেগুলোকে সামনে রেখে আসামিদের গ্রেফতারে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। আসামিরা আটক হলেই হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন হবে। এছাড়া অন্যান্য সকল আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।
জাগো/জেএইচ

