যশোর প্রতিনিধি
বেলা গড়িয়ে প্রায় দুপুর। এমন সময় হঠাৎ ভ্যানের ওপর বসে নানা গানের সুরে বাঁশি বাজাতে দেখা যায় আতিয়ার রহমান নামের এক ভ্যানচাললকে। অনেক পথচারীরা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে তার বাঁশির মনোমুগ্ধকর সুর উপভোগ করছেন।
আতিয়ার রহমান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এ ভ্যানে করে যাত্রী বহনের ফাঁকে রাস্তা ঘাটে বাঁশি বাজিয়ে যাত্রী এবং পথচারীদের আনন্দ দেন আতিয়ার। বাঁশিই যেন একমাত্র প্রিয় সাথী ভ্যানচালক আতিয়ারের।
আতিয়ার রহমান বলেন, “বাঁশি ছাড়া আমি একটা মুহুর্ত থাকতে পারি না। যেখানে যাই বাঁশি আমার সাথে থাকে। সকালে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হই, তখনও বাঁশি নিয়ে বের হই। ভ্যানে যাত্রী বহন করার ফাঁকে কোথায় দাড়ালে বাঁশিটা বের করে মনের মতো করে যে কোন একটা গানের সুর তুলি।”
আতিয়ার রহমান বলেন, “আমি রাস্তাঘাটে যখন তখন বাশি বাজাই এজন্য অনেকে আমাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করে। বলে যে ভ্যানচালক, কোথায় টাকা আয় করার চিন্তা করবে তা না ফাও কাজে বাঁশি বাজাচ্ছে। বাঁশি বাজানো আমার শখ। আমার বাঁশির সুর শুনে অনেকে মুগ্ধ হয়ে আমাকে চা- পান খাওয়ায়।
তিনি জানান, আমাকে কেউ বাশি বাজানো শেখায়নি। আমি রেডিও, টেলিভিশনের গানের সাথে বাঁশি দিয়ে সুর মেলানোর চেষ্টা করতাম। আস্তে আস্তে আমি বাঁশি বাজানো শিখে গিয়েছি।
ঢাকুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শামিম হোসেন বলেন, ” আতিয়ার ভ্যান চালায়। মাঝেমধ্যে বাজারে এসে ভ্যান রেখে ভ্যানের ওপর বসে বাঁশির সুর ধরে। শুনতে ভালোই লাগে।”
মনির হোসেন নামে আরেক ভ্যানচালক বলেন, “প্রথম প্রথম আমরা ওকে বকাঝকা করতাম, যে তুই ভাড়া মারা বাদ দিয়ে বাঁশি বাজাস কেন?, এখন আর বলি না, কারণ ওর এটা শখ। আমাদেরও কাছেও ভালো লাগে।
আতিয়ার রহমানের ভ্যানের পাশে দাঁড়িয়ে বাঁশির সুর শুনছিলেন মাসুম বিল্লাহ নামে এক এজনিও কর্মচারী। তিনি বলেন, অনেক জায়গায় বাঁশির সুর শুনেছি। কিন্তু এতো মনোমুগ্ধকর সুর কখনো শুনিনি। আসলে এটা অসাধারণ একটা প্রতিভা।
জাগো/আরএইচএম

