তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল-আহমাদ আল-সাবাহ মারা গেছেন। শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) তিন বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছে কাতারের দ্য রয়েল কোর্ট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অত্যন্ত দুঃখের সহিত, শোক প্রকাশ করে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল-আহমাদ আল-সাবাহর মৃত্যু হয়েছে। কুয়েতের জনগণ, আরব ও ইসলামিক বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।
শেখ নাওয়াফের মৃত্যুর খবরে শোক জানিয়ে কুয়েত ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক বাদের আল সাইফ বলেন, আজ কুয়েতের জন্য অত্যন্ত দুঃখের দিন। শেখ সাহেব দেশের জন্য ভালো কাজ করেছেন। তার কাজ ও শাসনামল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তার শাসনামল কুয়েতের ইতিহাসে তৃতীয় সংক্ষিপ্ততম শাসনামল ছিল
কাতারের সরকারি বার্তা সংস্থা কুনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জরুরি স্বাস্থ্য সংকটের কারণে গত নভেম্বর মাসে শেখ নাওয়াফকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সে সময় তার অসুখের বিষয়ে তেমন কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু পরে বলা হয়েছিল, তার অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।
শেখ নাওয়াফ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কুয়েতের আমিরের শপথগ্রহণ করেন। ৯১ বছর বয়সী সৎ ভাই শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর কুয়েতের নতুন আমিরের দায়িত্ব নেন তিনি। ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন নাওয়াফ। ২০০৬ সালে কুয়েতের আমিরের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। ১৯৯০ সালে ইরাকি সেনাদের হামলার সময় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এছাড়া কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন নাওয়াফ। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্রগোষ্ঠীর কাছ থেকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন তিনি। কুয়েতের আল-সাবাহ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে শেখ নাওয়াফের। সদা বিনয়ী আর সাদামাটা জীবনযাপনের জন্য তার বেশ সুনামও রয়েছে।
দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় শেখ নাওয়াফের মৃত্যুতে তার সৎ ভাই শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের (৮৩) এখন আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
১৯৩৭ সালে কুয়েতে জন্মগ্রহণ করেন শেখ নাওয়াফ। ১৯২১ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত কুয়েতের আমিরের দায়িত্ব পালন করা শেখ আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহর পঞ্চম পুত্র ছিলেন শেখ নাওয়াফ। কুয়েতে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা লাভ করেছিলেন তিনি। তবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেননি। মাত্র ২৫ বছর বয়সে কুয়েতের হাওয়ালি প্রদেশের গভর্নর হিসাবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন তিনি।
জেবি/জেএইচ

