বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচীর প্রথম দিনে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম বেনাপোল বন্দর থেকে ছাড়েনি কোন যাত্রীবাহী পরিবহন। এতে বন্দর থেকে দেশের সব রুটে বন্ধ রয়েছে যাত্রী পরিসেবা। এতে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন ভারত ফেরত পাসপোর্টধারীরা। তবে এ পথে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলের ডাকা অবরোধে বেনাপোল বন্দর কোনো প্রভাব পড়েনি। অবরোধের মধ্যে বন্দরে পণ্য লোড-আনলোড ও আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকেই ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য বন্দরের শেডে লোড-আনলোড হয়েছে। কাস্টমস, ব্যাংক ও বীমায় কাজৎ চলছে আগের মতো।

অবরোধের পক্ষে বেনাপোল ও শার্শায় কোনো পিকেটারকে রাস্তায় দেখা যায়নি। তবে অবরোধের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিশাল মোটরসাইকেল র্যালি করতে দেখা যায়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বেনাপোল দেশ ট্রাভেলস পরিবহনের ম্যানেজার জানান, অবরোধের সমর্থনে বাস ছাড়তে কেউ তাদের বাধা প্রদান করেনি। তবে নাশকতার আশঙ্কায় বন্ধ রয়েছে যাত্রী পরিবহন। মালিক পক্ষ পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত দিলে যাত্রী নিয়ে বাস ছাড়বে।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজি জাগো বাংলাদেশকে বলেন, অবরোধের মধ্যে বন্দর থেকে অনেক ট্রাকে মালামাল লোড হয়েছে। তবে বিকেলের দিকে এসব পণ্য বোঝাই ট্রাক বন্দর ছেড়ে যাবে।
বেনাপোল রেল ষ্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, অবরোধের কারণে বাস পরিসেবা পেতে যাত্রীদের ভোগান্তি হলেও রেল পরিসেবা চালু রয়েছে। অনেকে রেলের মাধ্যমে গন্তব্যে যাতায়াত করছেন।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রেজাউল ইসলাম বলেন, অবরোধের সমর্থনে কোন বাঁধা আসেনি। এতে বন্দর থেকে স্বাভাবিক রয়েছে ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও পণ্য খালাস। বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী পারাপারও স্বাভাবিক আছে।
বেনাপোল পোর্টথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কামাল হোসেন ভূইয়া জানান, হরতালের সমর্থনে বেনাপোল বন্দরে রাস্তায় কাউকে নামতে দেখা যায়নি। তবে নাশকতা এড়াতে শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও বন্দর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার রাখা হয়েছে।

