ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে নাজমুছ শাহাদাৎ বাবলু (৫৬) নামে এক বাংলাদেশি ট্রাক ড্রাইভারের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। মৃত ট্রাক চালক যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার সরদার পাড়ার মৃত অলিয়ার রহমান সরদারের ছেলে।
বন্দর কতৃপক্ষ থেকে জানা যায়, বুধবার সকালে ফরিদপুরের গোল্ডেন জুট ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ট্রাকে পাটজাত পণ্য নিয়ে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে যান বাবলু। বন্দরে দুপুরের দিকে ট্রাকটির মালামাল খালি হলেও বিএসএফ সদস্যরা তাকে দেশে ফিরে আসতে দেয়নি। সারাদিন ট্রাকের মধ্যে থাকার পর সন্ধ্যার দিকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয় বিএসএফ। ততক্ষণে ট্রাকের মধ্যেই তিনি মারা যান। সন্ধ্যায় সকল বাংলাদেশি ড্রাইভার খালি ট্রাক নিয়ে দেশে ফিরলেও তার ট্রাকটি দাঁড়িয়ে থাকা দেখে সঙ্গে থাকা অন্য ড্রাইভাররা গিয়ে দেখেন তিনি মারা গেছেন। রাতে মরদেহ ফেরত দেওয়ার আলোচনা হলেও পরে বিএসএফ জানায়, এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় মরদেহ ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
বেনাপোল ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মনিরুজ্জামান ঘেনা বলেন, পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশি ট্রাক ড্রাইভাররা যাওয়ার পর কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখে বিএসএফ। ট্রাক থেকে নেমে কোথাও যেতে দেয় না। ভেতরে তেমন খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। সারাদিন ট্রাকের মধ্যে থাকায় ড্রাইভাররা অসুস্থ হয়ে পড়েন। মরদেহ না পাওয়া পর্যন্ত বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান বলেন, বাংলাদেশি ট্রাক ড্রাইভারের মরদেহ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল করিম জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ভারত থেকে বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বন্দরের ভেতরে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে।

