আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন পরিচিত মুখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের পরিবর্তিত অবস্থা এবং ব্যক্তিগত ক্যারিশমার কারণে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এর সুফলও পাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বছরে জাপানসহ বিভিন্ন দেশে দ্বিপক্ষীয় সফর, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে বৈঠক, বাংলাদেশে ৩৩ বছর পরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সফর, ভারতে অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে সফল কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশি ফায়েজ আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হতে হলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও নিজস্ব যোগ্যতা – উভয়ের প্রয়োজন। একজন রাষ্ট্রনায়কের গুণের কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র তাকে গুরুত্ব দেয় এবং শেখ হাসিনাও এর ব্যতিক্রম নন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াস, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি অবিচল বিশ্বাস, মানবিকতা, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা বিভিন্ন কারণে পরিচিত মুখ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ
স্নায়ুযুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন বৃহৎ শক্তির বাধা উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিকতা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস। এর সবগুলোই অনুসরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মানবিক পররাষ্ট্রনীতি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মানবিক দৃষ্ঠিকোণ থেকে পরিচালিত হয়। সেজন্য দেশটি যেমন প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, তেমনি বিশ্বের যেকোনও প্রান্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সেখানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ।
মুনশি ফায়েজ আহমেদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা যখন শুরু হলো তখন তাদের আশ্রয় দিয়ে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেজন্য তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।
যেখানেই দুর্যোগ হয়েছে, সেখানেই বাংলাদেশ উদ্ধারকারী বা মেডিক্যাল টিম পাঠিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি লিবিয়া বা কভিডের সময়ে মালদ্বীপে মেডিক্যাল টিম পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ বলেও তিনি জানান।
বন্যা বা সাইক্লোনসহ যেকোনও ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বিশ্বস্বীকৃত। বিশেষ করে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়টি প্রশংসিত হয় কোভিড পরিস্থিতির সময়ে।
মুনশি ফায়েজ বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশের থেকে বাংলাদেশের কোভিড ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি ভালো ছিল। এটি সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় কোভিড টিকা ব্যবস্থাপনায়। ওই সময়ে একদিনে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছিল যা বাংলাদেশের সক্ষমতার বড় প্রমাণ।
বাংলাদেশের মূল পররাষ্ট্রনীতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে এবং সেই ধারনাকে সবসময় প্রয়োগের চেষ্টা করে শেখ হাসিনার সরকার।
জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা পৃথিবী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এটি মোকাবিলার জন্য অন্যতম জোরালো কণ্ঠ হচ্ছেন শেখ হাসিনা।
মুনশি ফায়েজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলা করার জন্য পৃথিবীব্যাপী যে উদ্যোগ সেটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ। শুধু তাই না, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সংগঠন ‘ক্লাইমেট ভারনারেবল ফোরামের’ নেতৃত্বও দিচ্ছে বাংলাদেশ।
অর্থনৈতিক অবস্থান
বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্বের কথা এখন সবাই বলে থাকে। এ কথা উল্লেখ করে মুনশি ফায়েজ বলেন, আমার বিবেচনায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান সবসময় একই ছিল। কিন্তু যেটির পরিবর্তন হয়েছে সেটি হচ্ছে অবস্থা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন আগের যেকোনও সময়ের থেকে ভালো এবং এখানে নতুন নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে যেটির সুবিধা নিথে অনেক দেশ আগ্রহী।

