সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রফতানি আয় বেড়েছে। গেল অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে রফতানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। তবে আয় বাড়লে পণ্য রফতানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ডলারের পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে রফতানি আয় বেড়েছে বলে মনে করছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পণ্য রফতানি হয়েছে ২৪ হাজার ৩৫১ টন। এর রফতানি মূল্য ২৬৪ কোটি ৬১ লাখ ৪২ হাজার ৪৪০ টাকা। গেল অর্থবছরের প্রথম মাসের আয়ের তুলনায় যা প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বেশি। সূত্রটি আরো জানায়, গেল ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে অর্থাৎ জুলাইয়ে এ বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি হয়েছিল ২৮ হাজার ২৪৮ টন। এর মূল্য ছিল ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫ হাজার ১১৬ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে পণ্য রফতানি কমেছে ৩ হাজার ৮৯৭ টন। কিন্তু আয় বেড়েছে ৩৪ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩২৪ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী ও আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পণ্য আমদানির পাশাপাশি সারা বছরই দেশীয় পণ্য রফতানি করে থাকে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রাইস ব্র্যান অয়েল, তাঁতি ও জর্জেট শাড়ি কাপড়, মশারি নেট ও প্রাণ গ্রুপের বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে গেল অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে পণ্য রফতানির পরিমাণ কিছু কমলেও মূল্য বেড়েছে বলে জানান তিনি।
ভোমরা বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু জানান, রফতানির পাশাপাশি আমদানিতেও খুবই সম্ভাবনাময় ভোমরা বন্দর। তবে তার অভিযোগ, অন্যান্য বন্দরের তুলনায় ভোমরা বন্দরে পণ্য আমদানিতে চরম বৈষম্যের শিকার ব্যবসায়ীরা।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের সিনিয়র রাজস্ব কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিন জানান, বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে এ বন্দরে রফতানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। তবে পণ্য রফতানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও বেশি মূল্যবৃদ্ধির কারণে রফতানি আয় বেড়েছে বলে জানান তিনি।

