অবশেষে ২২ দিন পর ক্লাসে ফিরলেন যবিপ্রবি শিক্ষকরা

আরো পড়ুন

অবশেষে ২২ দিন পর ক্লাসে ফিরলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষকরা। ফলে রোববার থেকে ক্লাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে শনিবার যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের কেন্দ্রীয় গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সভায় কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়। উপাচার্যের নির্দেশনায় শিক্ষক সমিতি কর্মবিরতি থেকে সরে এসে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরলেও ফের অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শোকাবহ আগস্ট এবং ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচিকে সামনে রেখে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে গেছেন।

প্রসঙ্গত, জুলাইয়ে কৃচ্ছ্রতা সাধনে সব ক্লাস অনলাইনে নেয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যে শিক্ষকদের লিফট বন্ধ ও এসি বাসের চাবি কেড়ে নেয়ার অভিযোগে শিক্ষক সমিতি ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যবিপ্রবি অচলাবস্থার সাময়িক সমাধান হলেও কারণগুলো বহাল থাকায় ফের অচলাবস্থা সৃষ্টির শঙ্কা কাটেনি। এই অচলাবস্থার শুরু হয় নতুন একাডেমিক ভবনে লিফট স্থাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে গেলে। গত ১৭ জুন শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে যান। সে সময় শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ১৫ জুলাই লিফট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন উপাচার্য। কিন্তু‘অনিয়ম-দুর্নীতি’র অভিযোগ ওঠায় ১৫ জুলাই পার হলেও সে লিফট স্থাপন করা হয়নি।

এদিকে, ঈদুল আযহার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরপরই সরকারের কৃচ্ছ্রতা সাধনের পরিপত্রকে সামনে রেখে যবিপ্রবি ১০ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সব বিভাগের সব বর্ষের ক্লাস শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে অনলাইনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সকল ক্লাস অনলাইনে নেয়ার ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন। সে সময় শিক্ষার্থীরা কৃচ্ছ্রতা সাধনের নির্দেশনা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল এসি, লিফট ও এসি বাস চলাচল বন্ধেরও দাবি তোলেন।

এরই মধ্যে ১৮ জুলাই যবিপ্রবি শিক্ষক অভিযোগ তোলে, গত ১৬ জুলাই কতিপয় শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তাদের গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও তারা সকল ভবনের লিফট বন্ধ করে দিয়েছে। ১৮ জুলাইও তারা শিক্ষক কর্মকর্তাদের গাড়ি বন্ধ রাখতে বাধ্য করে। এর প্রেক্ষিতে ওই দিন যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা করে অপমান লাঞ্ছনার তদন্তক্রমে সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। উপাচার্যের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট শিক্ষক সমিতি কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্র আরও জানিয়েছে, লিফট স্থাপন নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিতের পর এবার শিক্ষকরাও কর্মবিরতি সাময়িত স্থগিত করেছেন। কিন্তু দু’টি সঙ্কটেরই সমাধান না হওয়ায় সেপ্টেম্বরে ফের অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণার পর শিক্ষকরা এসি গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়ার অভিযোগ তুলে ক্লাস বর্জন করেন। ফলে প্রায় তিন সপ্তাহ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল। রোববার থেকে তারা আবার ক্লাসে ফিরেছেন। শোকাবহ আগস্টের কথা চিন্তা করে তাদের কর্মবিরতি স্থগিত করে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যাওয়ায় তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। লিফট স্থাপনের কোনো অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, লিফট ছাড়া নতুন একাডেমিক ভবনে ক্লাস নেয়া হলে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে যেতে পারে।

যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব জানিয়েছেন, শোকের মাস আগস্ট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশকিছু কর্মসূচি রয়েছে। এ কারণে শনিবার শিক্ষক সমিতির সভায় চলমান আন্দোলন সাময়িক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রোববার শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে গেছেন।

তবে অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব আরও জানিয়েছেন, ‘শিক্ষকদের বাসের চাবি কেড়ে নেয়া এবং লিফট বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে। উপাচার্য মহোদয় তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।’ তবে জড়িতদের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না হলে শিক্ষক সমিতি পরবর্তীতে আবারও কর্মসূচিতে যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ