ভিডিও কনফারেসিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের ন্যায় যশোরে পাঁচ উপজেলার ১৮৮ জনকে ঘর দুই শতাংশ জায়গাসহ ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে উপহার হিসেবে বিতরণ করেছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৫৮ জনকে ঘর ও জমি দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়।
এর আগে, চলতি বছরের ২২ মার্চ যশোরের তিন উপজেলা শার্শা, বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলাকে ভূমিহীনমুক্ত এলাকার স্বীকৃতি পায়।
বুধবার (৯ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপহারের জমিসহ ঘর নিতে আসেন অন্ধ ঝন্টু বাঁশফোড় এবং তার স্ত্রী যমুনা সাহা।
ঝন্টু বাঁশফোড় বলেন, ‘আমাগের অন্ধের ঘরে প্রধানমন্ত্রী আলো জ্বেলেছে। ৪০ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই চোখ হারিয়েছি। আমি কাজকর্মে অক্ষম। আমার স্ত্রী হাট-বাজারে ঝাড়ু দিয়ে আয় রোজগার করে। তাই দিয়ে আমাদের সংসার চলে। দুই ছেলে-মেয়ে তার মধ্যে ছেলেটি প্রতিবন্ধী। আমাদের কোনকালে মাথা গোজার ঠাই ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে মাথা গোজার ঠাই পেলাম’।
যমুনা সাহা বলেন, আমরা কোনদিন কল্পনা করতে পারিনি যে আনাদের নিজস্ব মাথা গোজার ঠাই হবে। আমার ভেবেছিলাম মরার আগ পর্যন্ত আমাদের নিজেদের কোন ভিটেমাটি হবে না।
সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার বাপ-দাদাদের কোন কালে জায়গা জমি ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকেই পরের বাড়ি ভাড়া থেকেছি। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে আমরা অনেক খুশি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে ভূমি ও গৃহহীনদের ঘরবাড়ি দিতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার প্রধান। এজন্য যেখানেই সরকারের খাস জমি আছে, সেগুলো উদ্ধারের পর বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। যেসব জায়গায় পর্যাপ্ত জমি নেই, সেখানে কেনা হচ্ছে জমি। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধার করে আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণ হয়েছে। এই পর্যন্ত জেলায় ঘর ও ভূমি পেয়েছে দুই হাজার ৯৪ জন। আজ ৯ আগস্ট চতুর্থ পর্যায়ে (২য় ধাপ) জমিসহ ঘর পাচ্ছে আরও ১৮৮ পরিবার। এর মধ্যে সদর উপজেলাতে ৫৮, অভয়নগর ৯, মণিরামপুর ৩৫, ঝিকরগাছা ৪০ ও শার্শা ৪৬ জনকে।
এর মধ্যে ৫৮টি ঘর দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে সদর উপজেলাকে শতভাগ ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন। বাকি ১৩০টি ঘর চার উপজেলার ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া জেলায় নির্মাণ কাজ চলছে ২৫টি। নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৭৩টি।
সদর উপজেলা হলরুমে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ দাশ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জোৎস্না আরা মিলি প্রমুখ।

