শতভাগ বিদ্যুতায়নে আমরা সফল, এখন লক্ষ্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: নসরুল হামিদ

আরো পড়ুন

আগে আমাদের লক্ষ্য ছিলো শতভাগ বিদ্যুতায়ন, সেটাতে আমরা সফল হয়েছি। এখন লক্ষ্য হচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। এটা করতে হলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরিস্থিতি কিন্তু স্থির থাকে না, তাই সময়ে সময়ে মাস্টারপ্ল্যান রিভিউ করতে হয়েছে। অনেক কিছু করতে পেরেছি, অনেক কিছু হয়নি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি না হলে আরো কিছু করা সম্ভব হতো।

শনিবার (৫ আগস্ট ) এফবিসিসিআই ভবনে ‘বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, বঙ্গবন্ধুর দর্শন’ শীর্ষক সেমিনারে
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এসব কথা বলেন।

নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের আবিষ্কৃত গ্যাস আর মাত্র আট থেকে নয় বছর চলবে, গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু সেগুলো ছোট ছোট। বাপেক্স বাইরে যাবে না, কাউকে ঢুকতে দেবে না, এখন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বাইরে থেকে রিগ ভাড়া করে কূপ খনন করা হবে। ৪৬টি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছি, এতে সাড়ে ছয়শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়বে, আবার একই সময়ে কিছু কূপের উৎপাদন কমে যাবে। সেটিও সাড়ে ছয়শ এর মতো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি আশ্বাস দিতে পারি, গ্যাস সংকট থেকে বের হয়ে আসতে পারব। তবে পরিকল্পিত জোনে শিল্প স্থাপন করতে হবে। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে। ভোলায় উদ্বৃত্ত গ্যাস রয়েছে, পাইপলাইনের অভাবে আনা যাচ্ছে না। পাইপলাইন করতে নয় থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা লাগবে। পাইপে ৩০০ মিলিয়ন গ্যাস সরবরাহ থাকতে হবে। এখন কি সেই গ্যাস দেওয়া সম্ভব! ভোলায় শিল্প স্থাপন করা হলে এখনই গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে সাহস করে পাঁচটি গ্যাস ফিল্ড কিনে নেন। সেসব গ্যাস ফিল্ড থেকে তিন লাখ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে, ২১ বছর লেগেছে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে। বঙ্গবন্ধু রিগ কিনেছেন, তার মেয়েও রিগ কিনেছেন।

নসরুল হামিদ বলেন, এসপিএম করা হয়েছে, পানির নিচ দিয়ে ২৬০ কিলোমিটার লাইন করেছি। আগে গভীর সমুদ্রে থাকা জাহাজ থেকে তেল খালাস করতে ১২ দিন লাগত, এখন ৪৮ ঘণ্টায় তেল খালাস হবে। এতে বছরে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এটা করতে গিয়েও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। সিনিয়ররা প্রযুক্তি নিতে চায় না, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে, স্মার্ট থিংকিংয়ে যুক্ত হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরাট সম্ভাবনা আমাদের কয়লায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগে স্থানীয় কৃষকের কথা ভাবতে হবে। তাদের পুনর্বাসন কীভাবে সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আমার কাছে যে তদবির আসে তার বেশিরভাগ গ্যাস সংযোগের জন্য। আমরা দিতে পারছি না। ২০২৬ সালের পর থেকে শিল্পে গ্যাসের কোনো সংকট থাকবে না। আমাদের আরও কূপ খনন করা দরকার। বাপেক্সের পাঁচটি রিগ রয়েছে, আরেকটি রিগ কেনার অনুমোদন দিয়েছি। একটি রিগ দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ তিনটি কূপ খনন করা যায়।

সচিব বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে তেল আমদানি করা হচ্ছে। এতে অনেক খরচ কমে যাবে। জাহাজে করে তেল আনতে প্রিময়াম দিতে হয় ১১ ডলার, এখানে সাড়ে পাঁচ ডলার। এসপিএম অক্টোবর নাগাদ চালু করতে পারব। এটি হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় ভালো অবস্থানে যাবে।

মডেল পিএসসি আপডেট করা হয়েছে, এক মাসের মধ্যে সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সচিব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারী অধ্যাপক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্র কিনে না নিতেন, পুরোপুরি বিদেশির ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন যে গ্যাস পাচ্ছি তার সিংহভাগ আসে কিনে নেওয়া পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্র থেকে। বঙ্গবন্ধু একইসঙ্গে সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হলে আস্তে আস্তে অনুসন্ধান কমে যেতে থাকে। ত্রিপুরা তাদের ছোট্ট আয়তনে ১৬৮টি অনুসন্ধান কূপ খনন করেছে। আয়তনের দিক থেকে কয়েকগুণ বড় বাংলাদেশ মাত্র ১০০টি কূপ খনন করেছে। এতেই বুঝতে পারা যায়, বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে।

বদরুর ইমাম বলেন, এখনকার সংকট দূর করার একমাত্র উপায় হচ্ছে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান। সাগরে আমাদের দুই পাশে ভারত ও মিয়ানমার গ্যাস পেয়েছে। কিন্তু আমরা ওই অঞ্চলে গ্যাস পাইনি, প্রাকৃতিক কারণে নয়, অনুসন্ধান ঢিলেমির কারণে। ভূতত্ত্ববিদরা মনে করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বড় রিজার্ভ পাওয়া যাবে মিয়ানমার সংলগ্ন এলাকায়।

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, বড়পুকুরিয়ার উত্তরাংশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যেতে পারে। কারণ সেখানে মাটির স্বল্প গভীরে কয়লার অবস্থান। বাংলাদেশে লোহার খনি আবিষ্কার করেছে জিএসবি। হাকিমপুর উপজেলায় অবস্থিত ক্ষেত্রটিতে বিশাল মজুদ রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। ২০৪১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা, এটা নিশ্চিত করতে হলে বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এখন আমাদের জ্বালানি খাত অনেকটা আমদানি নির্ভর, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে ঝুঁকি থেকে যায়। অনেক দেশ রয়েছে যারা জ্বালানি রফতানি করে। আমাদের সে সুযোগ নেই, আমাদের একমাত্র রফতানি পণ্য হচ্ছে শিল্পপণ্য। শিল্পকে অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি জরুরি। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে হলে নিজস্ব কয়লা উত্তোলন করা জরুরি। এক সময় যে দেশগুলো কয়লার বিরুদ্ধে কথা বলতো, ইউক্রেন যুদ্ধের পর তারা আবার কয়লার দিকে ঝুঁকেছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ