কোন্দল মেটাতে রবিবার তৃণমূল নেতাদের কথা শুনবেন শেখ হাসিনা

আরো পড়ুন

দ্বাদশ জাতীয় সংষদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, আর সেই প্রস্তুতিও শুরু করেছে রাজনৈতিকদলগুলো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের ভেতরে কোনো ধরনের গ্রুপিং বা কোন্দল যেন না থাকে সে লক্ষ্যে দলীয় ঐক্য ঠিক রাখতে সভায় বসতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এই সভা থেকে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা আসবে বলেও জানা গেছে।

রবিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় সভাটি শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের কয়েকটি সূত্র জানায়, সভায় সারাদেশ থেকে প্রায় তিন হাজার নেতা ও জনপ্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। বিশেষ এই বর্ধিত সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, জেলা ও মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর (জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা) আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সংসদের দলীয় সদস্য, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দলীয় মেয়র এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন।

দলীয় সূত্র জানা যায়, বর্ধিত সভায় আট বিভাগের প্রতিটির একাধিক জেলা ও মহানগরের নেতাদের বক্তব্য শুনবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এরপর তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের সাথেও কথা বলতে পারেন বলে জানা গেছে। কিংবা বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনার প্রেক্ষিতে কথা বলতে পারেন বা বিভিন্ন এলাকার উপস্থিত জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলতে পারেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা জানান, দলকে সুসংগঠিত করতে বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে।

এর আগে, নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। অনেক কাজ এই দল দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য করেছে এখনও করে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নের মাধ্যমে যে পরিবর্তন সেটি যে কেউ দেখলে অভিভূত হয়। সামনের নির্বাচনে আমাদের এসব চিত্র তুলে ধরা হবে। সরকারের উন্নয়ন প্রচার নিয়ে আমাদের প্রচার সেলের টিম কাজ করছে। সামনে এসব বিষয়ে আরা দিক নির্দেশনা দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এবারও তিনি নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতাদের ডেকেছেন। সেখানে নির্বাচন, দলের ঐক্য, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিসহ সার্বিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

দলের এই দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, সামনে নির্বাচন। দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচন নিয়ে কথা হবে। এছাড়াও আমাদের দলের কেউ কেউ মনোনয়ন না পেলে কষ্ট পায়। তারা যেন সব ধরনের বিভেদ ভুলে কাজ করেন সে বার্তাও থাকবে। মোট কথা দলের জন্য সবাইকে কাজ করার যে নির্দেশনা সেটি হয়তো আসবে বলে জানান এই নেতা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল নেতাদের দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। জনগণের রায় যাতে পাওয়া যায়, সে জন্য কী করা প্রয়োজন, বিষয়গুলো জানানো হবে। নির্বাচনে জয়ের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা, নিজেদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি থাকলে সেগুলো মিটিয়ে ফেলার বার্তা দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

জানা গেছে, দলের দফতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সারা দেশের দুই হাজার ৮৫৬ জন তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধির একটি তালিকা করেছেন। গত মাসে তৃণমূলের নেতাদের কাছে কেন্দ্র থেকে চিঠি দিয়ে নামের তালিকা চাওয়া হয়েছিলো। তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় তালিকা তৈরি করা হয়েছে। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দলের অভ্যন্তরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আবারও জয় পেতে হলে দলের মধ্যে ঐক্যের বিকল্প নেই। এ জন্য বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে তৃণমূল নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনে জয়ের জন্য সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার নির্দেশনা থাকতে পারে দলীয় কর্মীদের জন্য। এছাড়াও বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন ভণ্ডুল করতে যেসব কর্মসূচি দিচ্ছে, ষড়যন্ত্র করছে, সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টি নির্বাচনমুখী করতে তৃণমূল নেতাদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে নির্দেশনা দেয়া হবে। সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক থেকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিবাদী করে তোলার আহবান জানাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি তৃণমূল নেতাদের সতর্ক করবেন। কোন্দল মিটিয়ে একসঙ্গে কাজ না করলে ক্ষমতায় আসা কঠিন হবে, সেটিও বলবেন। দল ক্ষমতায় না এলে বিএনপি-জামায়াত নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, তাও মনে করিয়ে দেবেন। বিএনপি-জামায়াতের আমলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যে সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন, তা স্মরণ করিয়ে দেবেন শেখ হাসিনা। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় মনে করছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয় পাওয়া সম্ভব হবে। দলের বিভেদ মেটাতে না পারলে ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য দলের বিশেষ বর্ধিত সভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ