পদোন্নতি পাচ্ছেন ১৫-২৮তম ব্যাচের অধিকাংশ কর্মকর্তা

আরো পড়ুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এ উপলক্ষে প্রশাসনকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে; বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৭৫ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর ফলে পুলিশে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বদলি নিয়ে কানাঘুষা চলছে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে।

জানা গেছে, পুলিশে তিন স্তরে বদলি করার পরিকল্পনা করেছে পুলিশ সদর দফতর। কাজ চলছে পুরোদমে। তালিকা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে যাবে পুলিশ। এ কারণে তফসিল ঘোষণার আগেই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার ও জেলার এসপিদের বদলি করা হবে। পরে নির্বাচন কমিশন বদলি করলেও পুলিশে ব্যাপক প্রভাব পড়বে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পুলিশে আবারও বড় ধরনের পদোন্নতির ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। সংখ্যাতিরিক্ত (সুপারনিউমারারি) এ পদোন্নতিতে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতির নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫২৯টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করতে গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পদোন্নতির বিষয়ে সিগন্যাল আসার পর ২০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে এ-সংক্রান্ত একটি সভা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেছেন অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি) মো. আলী হোসেন। পাশাপাশি পুলিশের মহাপরিদর্শক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিশেষ বৈঠক করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেই পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ও ২৪টি জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) বদলি করা হয়েছে। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার আগেই প্রায় সব জেলার এসপিকে বদলি করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা বলেন, বদলির জন্য তিনটি স্তর করা হয়েছে। যেসব জেলার পুলিশ সুপারদের দায়িত্ব পালনের দুই বছর হয়েছে, তাদের একটি তালিকা হয়েছে। বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের বাছাই করা হচ্ছে; নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তাদের অন্য জেলা বা ইউনিটিতে বদলি করা হবে, যাতে নির্বাচন কমিশনের অধীনে পুলিশ চলে যাওয়ার পর বদলি করলেও সমস্যা না হয়।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বেশ জটিল হবে বলে মনে হয়। এ জন্য চৌকস ও নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মকর্তাদের আমরা বাছাই করে বদলি করার কাজ শুরু করেছি। বড় পদোন্নতির ঘটনাও ঘটবে। সুপারনিউমারারির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে পদোন্নতির লম্বা তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ-সূত্র জানায়, পুলিশে দুজন অতিরিক্ত আইজিপির পদ খালি রয়েছে। গত সপ্তাহে সচিবালয়ে এসএসবির বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে দুটি অতিরিক্ত আইজিপির শূন্য পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভ্যব্য কয়েক জনের নাম আলোচিত হয়েছে। ১৫তম ব্যাচের দুজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি হচ্ছেন বলে জানা গেছে। সুপারনিউমারারি পদে ৫২৯ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের হাইকমান্ড নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে ১৫ ও ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নাম প্রায় চূড়ান্ত। ১৮, ২০, ২১, ২২ ও ২৪তম ব্যাচের প্রায় সবাই ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন। তা ছাড়া ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের পুলিশ সুপার করার বিষয়ে প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি তালিকা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তালিকায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (গ্রেড-১) ১৫, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (গ্রেড-২) ৩৪, উপমহাপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ১৪০, অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) ১৫০ ও পুলিশ সুপার ১৯০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পদোন্নতি পাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তাদের ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ রেঞ্জে নিয়োগ দেয়া হবে। তা ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর মহানগর পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর, এসবি, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা, পুলিশ স্টাফ কলেজ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, এপিবিএন, এন্টি টেররিজম ইউনিট, পিবিআই, টুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, মেট্রোরেল পুলিশ ইউনিট ও পিটিসি ইউনিটে (টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, রংপুর ও খুলনা) সুপারনিউমারারি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না পাওয়ার হতাশা থেকে বের করে আনতেই এ পরিকল্পনা করেছে পুলিশ সদর দফতর। এই পদোন্নতিকে ‘নির্বাচনী’ পদোন্নতি আখ্যাও দেয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এ আখ্যার বিষয়টি মানতে নারাজ।

পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সামনে সংসদ নির্বাচন। হিসাব করেই পদোন্নতি ও বদলির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পদোন্নতি ও বদলির একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সুপারনিউমারারিতে পদোন্নতি সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, পদ না থাকায় পদোন্নতি পাচ্ছে না অনেকে। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। হতাশা দূর করার জন্যই এ পদক্ষেপ।

পদোন্নতি হওয়ার পর কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাবে। যেসব পদ খালি হবে, সেই পদগুলোতে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা কাজ করবেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে ২৯তম ব্যাচের ১৫০, ৩০তম ব্যাচের ১৮৪, ৩১তম ব্যাচের ১৮৩ ও ৩৩তম ব্যাচের ১৫৫ জন অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপারের পুলিশ সুপার হিসেবে সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, পদোন্নতি ও বদলি রুটিন বিষয়। নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশে কোনো বদলি করা হচ্ছে না। পুলিশের যারা বেশি দিন ধরে একই ইউনিটে কর্মরত আছে, তাদের সরানো হচ্ছে। সুপারনিউমারারির মাধ্যমে পদোন্নতির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বলেন, যাদের ওপর আস্থা রাখা যায়, তাদের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচনী ছকেই হাঁটা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা থাকে সব সময়। বিষয়টি মাথায় রেখে আগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্বাচনের সময় রেঞ্জ ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলার এসপি, মহানগর জোনের উপকমিশনার, থানার ওসি, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বড় ভূমিকা থাকে। এ কারণে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, আগে থেকে তাদের ফিটলিস্ট তৈরি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ