আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য একটাই বৈষমহীন দেশ গড়ার। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের অপশক্তি বাংলাদেশকে নিচিহৃ করতে চাই। কিন্তু বিএনপিকে আর হত্যা-খুনের রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। খুনের রাজনীতিতে ধ্বংস হয়ে গেছে বিএনপি জামায়াত। বিএনপির একটাই লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে কীভাবে হত্যা করা যায়। তাদের খুনের রাজনীতির কারণে ধ্বংস দাঁড়প্রান্তে।

যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
১৭ বছর পর যশোর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বুধবার উৎসবমুখর পরিবেশে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলন সফল করতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন।

শীর্ষ দুই পদ প্রত্যাশী নেতাদের সমর্থকদের মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয় ঈদগাহ ময়দানে। আর এ সম্মেলন ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছিল যশোর শহর। শুধু জেলা শহর নয়; প্রতিটি উপজেলাতে এই উৎসবের আমেজ পৌঁছে যায়। দৃষ্টি নন্দন আলোকিত ডিজিটাল এলইডি মঞ্চ দেশের প্রথম শ্রেণীর বরেণ্য যন্ত্র শিল্পীদের দ্বারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার কর্মকান্ডের উপর ২২ মিনিটের ‘অনির্বাণ’ বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা অর্কেস্টার মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। জাতীয় ও দলীয়পতাকার উত্তলণের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু।
সম্মেলনে তিনি আর বলেন, বিএনপি শেখ হাসিনাকে কবরে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। শরীরে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বিএনপিকে মোকাবিলা করে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করা হবে। বাংলাদেশকে ধ্বংস করার ক্ষমতা কারো নেই। বিএনপি-জামাত খুনির দলেরা ভেবেছিল জাতির পিতাকে হত্যা করে তার আদর্শকে হত্যা করবে। কিন্তু ইতিহাস পরিবর্তন করা যায় না। সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা গেলেও স্থায়ীভাবে তা পরিবর্তন করা যায় না। সঠিকভাবেই ইতিহাস পরিচালিত হয়। তারা জাতির পিতার আদর্শকে কখনোই পরিবর্তন করতে পারবে না। বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়ে গেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারী উন্নয়নের বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। অন্য দেশগুলো তাদের নেতাদের বলে, যাও বাংলাদেশে যেয়ে দেখে আছো কি ভাবে শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা নেতৃত্ব আমরা বহুদূর এগিয়ে যাবো।
আ.ফ.ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, আপনারা সবাই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন। তার আদর্শকে ভালোবাসেন। কারণ বঙ্গবন্ধু ছিলেন সকল মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের সেবা করে গেছেন। এখন তার সন্তান জননেত্রী শেখ হাসিনাও সব সময় জনগণের সেবা করে চলছেন। তিনি আছেন বলে এই বাংলার জনগণ অনেক ভালো আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন জনগণকে নিয়ে চিন্তা করেন। তাই আশা করি জনগণ তাকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে চিন্তা করবে না। শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবারও পরিচালিত হবে । জনগণ তাকে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে রাখেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু।
অনুষ্ঠানে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আসাদুজামান মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে রাখেন, খুলনা বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সদস্য নির্মল চ্যাটার্জি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে রাখেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, যশোর-৩ সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দীন, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মেজর জেনারেল (অবঃ) নাছির উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসির উদ্দীন, সহ-সভাপতি কৃষিবিদ আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সায়েম, জাতীয় পরিষদের সদস্য তাওহীদুর রহমান ও অ্যাড. সাইদুর রহমান।

