আগামীকাল স্বেচ্ছাসেবকলীগের যশোর জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে এ সম্মেলন ঘিরে যশোর শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বর্ণিত সাজে সেজেছে যশোর শহর। যশোর জেলার আওতাধীন ৮ টি উপজেলা ৮টি পৌরসভার প্রতিটি কোনায় কোনায় এই উৎসবের আমেজ পৌঁছে গেছে।
মঙ্গলবার প্রেসক্লাব যশোরের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন আহ্বায়ক আসাদুজামান মিঠু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রোদ বৃষ্টি ঝড় উপেক্ষা করে ৫,০০০ কর্মীর বসার ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক প্যান্ডেল তৈরী করা হয়েছে। একই সাথে ১০ হাজার কাউন্সিলর ডেলিগেট সহ স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী ২৫ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সম্মেলনটি হবে ঐতিহাসিক এবং উৎসব মুখর। দৃষ্টি নন্দন আলোকিত জিডিটাল এল ই ডি মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠ হওয়ার কারণে এই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাখা হচ্ছে না। তবে দেশের প্রথম শ্রেণীর বরেণ্য যন্ত্র শিল্পীদের দ্বারা বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মকান্ডের উপর ২২ মিনিটের ‘অনির্বাণ’ বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা অর্কেস্টার মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে। আমাদের আদর্শের পিতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার আদোরের দুলালী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধুর আমৃত্যু রাজনৈতিক সহোচর জাতীয় চার নেতাদের স্মরণের মধ্যে দিয়ে আদর্শীক চেতনাকে জাগ্রত করা হয়েছে। যশোরের আলোকিত বরেণ্য রাজনীতিবিদ স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মশিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. রওশন আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবর রহমান সরদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান টিপু সুলতান, পীরজাদা শাহ্ হাদীউজ্জামান, আলী রেজা রাজু, এ্যাড. শরীফ আঃ রাকিব, খালিদুর রহমান টিটো, ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল রায় চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দীন স্মরণে তোরণ তৈরী করে যশোরের রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ।
আসাদুজামান মিঠু আরও বলেন, অকাল প্রয়াত নেতা মানবতার ফেরিওয়ালা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি নির্মল রঞ্জন গৃহ এবং সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যশোর শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি শহীদ আব্দুল মান্নানকে স্মরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রচার প্রচারণায় একধাপ এগিয়ে যশোর জেলার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ তোরণ, ফেস্টুন, ব্যানার, পোস্টার এর মাধ্যমে যশোর শহর সহ সকল উপজেলাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে ও প্রচার মাইকের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউব এর মাধ্যমে সম্মেলন অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিজিটাল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডাটাবেজ আপলোড করে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল স্মার্ট কর্মি বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জীবন্ত কিংবদন্তী, যার হাতে আজ বিকশিত রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে স্বেচ্ছাসেবকলীগ প্রতিষ্ঠিত, সেই নেতা- আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দীন নাছিম প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতির জন্য হাজারগুনে কর্মীদের উৎসহ উদ্দীপনা বেড়ে গেছে। তাছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসাবে খুলনা বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নির্মল চ্যাটার্জি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক এ.কে এম আফজালুর রহমান বাবু, সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসির উদ্দীন, সহ-সভাপতি কৃষিবিদ আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- খায়রুল হাসান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সায়েম এর উপস্থিতি সম্মেলনকে আরো বেগবান এবং প্রাণবন্ত হবে বলে আশা করি ।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আরও বলেন, যশোরের সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের সকল স্তরের ব্যক্তিবর্গের নিকট নিয়ন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ স্বাধীনতার চেতনাধারণকারী সকল মানুষের মনে একটি অন্যরকম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা আশা করি এই সম্মেলনের মাধ্যমে সৎ সাহসী, যোগ্য এবং আদর্শিক নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে, যে নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন, নতুন নেতৃত্ব তার পক্ষে জোরালো ভাবে কাজ করবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে সেই নেতৃত্বই উঠে আসবে যারা মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও সমাজ বিরোধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে যে নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে সেই নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত। স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল স্মার্ট কর্মী বাহিনীর নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে বিশ্বাস করি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী মিলন ও শেখ ইমামুল কবির প্রমুখ।

