পশ্চিমবঙ্গে সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন। এ নির্বাচন কেন্দ্র করে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (০৮ জুলাই) ভোটপর্ব শুরু হতেই গোটা রাজ্য থেকে হিংসা ও অশান্তির খবর সামনে আসতে শুরু করে। একদিকে যেমন দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ২২ শতাংশ। তেমন সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ ঘণ্টায় ভোট চলাকালীন ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ৮ জুন ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এদিন (৮ জুলাই) পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র করে ৩০ জনের প্রাণ ঝরল।
এ ঘটনা ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও দেখা যায়নি। সেই সহিংসতা ছাপিয়ে গেল ২০২৩ -এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট সহিংসতায় মৃত্যু হয়েছিল ২৩ জনের।
বেলা বাড়তেই এমনই বহু অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে আসতে শুরু করেছে। কোথাও আবার প্রিসাইডিং অফিসারের সামনেই ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতিকারীরা। কোথাও গোটা ব্যালট বাক্স পানির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও সেই বাক্সে লাগিয়ে দেওয়া হলো আগুন।
শনিবার ভোট চলছে পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলায়। কলকাতা বাদ দিয়ে রাজ্যটির এই ২২ জেলার মধ্যে দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় ভোট চলছে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট। এবং বাকি জেলাগুলিতে ত্রি-স্তর বিশিষ্ট (গ্রাম সভা, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ) অংশে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ভোট হচ্ছে ব্যালট পেপারে। মোট ৭৩ হাজার ৮৮৭ আসনে প্রায় দুই লাখের বেশি প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে ৬৩ হাজার ২২৯টির গ্রাম পঞ্চায়েত আসন; নয় হাজার ৭৩০ পঞ্চায়েত সমিতির আসন এবং ২২ জেলা পরিষদের ৯২৮টি আসন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ,কংগ্রেসে এবং আইএসএফ।
ভোট নেওয়া হচ্ছে ৬১ হাজার ৬৩৬টি বুথে। ভোটার সংখ্যা পাঁচ কোটি ৬৭ লাখের ২১ হাজার ২৩৪ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ৮২২ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী (এক কোম্পানি সমান প্রায় ১০০ জন)। এছাড়া আছে রাজ্য পুলিশের সদস্য, কুইক রেসপন্স টিম। এবং ভোটে ব্যবহার করা হচ্ছে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী।

