সারাদেশের প্রায় ১৫-১৬ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় রাজবাড়ী জেলায়। পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বেশিরভাগ কৃষক ভরা মৌসুমেই তা অল্প দামে বিক্রি করে দেন। অল্পকিছু কৃষক নিজস্ব উপায়ে সংরক্ষণ করলেও থাকে নানা জটিলতা। তাই পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণে কৃষক পর্যায়ে বিনামূল্যে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
কালুখালী উপজেলায় পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়। কালুখালীতে প্রায় ১৮ হাজার কৃষক পেঁয়াজ চাষের সঙ্গে জড়িত। এ বছর উপজেলায় ৮ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছে ৯৩ হাজার ৮১৭ টন পেঁয়াজ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৩৪ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে।
এসব পেঁয়াজ সংরক্ষণে কালুখালী উপজেলায় বিনামূল্যে ২০টি মডেল ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এর মধ্যে উপজেলার মৃগী ইউনিয়নে চারটি, বোয়ালিয়ায় চারটি, রতনদিয়ায় তিনটি, মাজবাড়ীতে তিনটি, সাওরাইলে তিনটি ও মদাপুরে দুটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ করছেন মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে, শেষ হবে জুন মাসে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উন্মুক্তস্থানে কৃষকের বাড়ির আঙিনায় কংক্রিটের পিলারের ওপর বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ঘর। রঙিন টিন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছাউনি। এছাড়া ঘরে দেওয়া হয়েছে তিন স্তরের মাচালি। সার্বক্ষণিক আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য ঘরের চারপাশের বেড়া ও দরজা দেওয়া হয়েছে বাঁশ দিয়ে। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা। প্রতিটি ঘরে পাঁচজন কৃষক যৌথভাবে শুধু বিদ্যুৎ বিল দিয়েই ৩০০ মণ পেঁয়াজ ৬-৯ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাঠ কর্মকর্তা মো. রাজিব খান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কালুখালীতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নে বিনামূল্যে ২০টি ঘর নির্মাণ হচ্ছে। প্রতিটি ঘরে পাঁচজন কৃষক যৌথভাবে ৩০০ মণ পেঁয়াজ রাখতে পারবেন। এ ঘরে ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ রাখা যাবে। এর ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন। সারা বছরের পেঁয়াজের ঘাটতিও পূরণ হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলায়ও এমন ঘর নির্মাণ করা হবে।
কালুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পূর্ণিমা হালদার বলেন, কালুখালী পেঁয়াজ আবাদের উপযুক্ত এলাকা। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। বিগত দিনগুলোতে কৃষকরা পেঁয়াজ উৎপাদনের পর নিজস্ব উপায়ে সংরক্ষণ করেছে। কিন্তু এবার পাইলট প্রকল্পে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২০টি ঘর নির্মাণ করছে। এ ঘরে পেঁয়াজ রাখার যে সুবিধা কৃষকরা যদি সেটি পায়, তাহলে পরবর্তীতে সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।
তিনি আরা বলেন, এ পদ্ধতিতে বেশিদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে হয়তো বড় বড় কৃষকরা নিজস্ব খরচে এ ধরনের ঘর নির্মাণ করবেন। এতে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। সঠিক দামও পাবেন।

