মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতা বৃদ্ধি কিংবা তাদের মিত্র দেশগুলো থেকে নতুন করে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ।
বিভিন্ন অসমর্থিত ও দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাউন্টার পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশও যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলো থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেয়, তখন অর্থনৈতিকভাবে কতটা ভারসাম্য ধরে রাখতে পারবে দেশ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে এই নিয়েও।
যতদূর জানা গেছে, কাউন্টার নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে এখনো যায়নি বাংলাদেশ। যাবে কি না, তা-ও নিশ্চিত নয়। তবে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে কাউন্টার পদক্ষেপে যাওয়ার মতো আগাম প্রস্তুতি রাখছে সরকারও।
সূত্রগুলোর দাবি, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আর দেশের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এক নয়। এ ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় পড়ার মতো পরিস্থিতিতেও নেই বাংলাদেশ। শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ কমিশনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি না হলে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার কোনো একক মিত্র দেশের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্যের পর থেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ শুরু করেছে। সংগ্রহ করা হচ্ছে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানির হিসাব। খতিয়ে দেখা হচ্ছে আমদানিকৃত পণ্যের দেশীয় বাজার পরিস্থিতি। একই সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে আমদানি-রফতানির বিকল্প বাজারেরও।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানান, সরকার কাউন্টার স্যাংশনে যাওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পরিকল্পনার কথাও জানা নেই। তবে সিদ্ধান্ত নিলে কী করা উচিত, কী উচিত নয়, তা অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব জানান, একক দেশ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের আমদানি খুব বেশি নয়। যৎসামান্য। সেখানে লেনদেন ভারসাম্য বাংলাদেশের অনুকূলে। অর্থাৎ অনেকগুণ বেশি রফতানি করছি আমরা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গেলেও সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব তেমন একটা থাকবে না।
এফবিসিসিআইর বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, সরকার দক্ষ হাতে দেশ পরিচালনা করছে। অর্থনীতিকে বিশ্বের কাছে ঈর্ষণীয় কাতারে নিয়ে গেছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমাদের সক্ষমতার উন্নয়ন ঘটেছে। যার কারণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবও আমরা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। কাউন্টার স্যাংশনে যাওয়ার আগে সরকার তার সক্ষমতা নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে।

