নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত দলে প্রাথমিক ও পূর্ণাঙ্গ সদস্যের সংখ্যা কত, তা জানা নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। এসব কার্যক্রম শেষে পরবর্তী সম্মেলনের আগেই কেন্দ্রে এ-সংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর কথা তৃণমূলের। তবে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তা মানছে না শাখাগুলো।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ জেলা, উপজেলা, থানা ও ওয়ার্ডে ঠিক কতসংখ্যক নতুন সদস্য নিবন্ধিত হয়েছেন, আর কতসংখ্যক পুরোনোরা তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেছেন, এর তালিকা দেয়নি সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো। কার্যক্রম শেষে মুড়ি বই ফেরত দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা না দিয়ে বরং শাখাগুলো নতুন করে বই নিয়েছে দলের দফতর থেকে। এমনকি তথ্য দেয়ার জন্য তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি দল।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আমাদের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, থানা এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি আছে। কোন শাখা কত সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন করছে, তা হিসাব করলেই বের করা সম্ভব। এটি অবশ্যই থাকা উচিত।
জানা গেছে, দলের প্রত্যেক সম্মেলনের পর নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরোনো সদস্যপদ নবায়নের কাজ শুরু হয়। দুই সম্মেলনের মধ্যবর্তী সময়ে এ কার্যক্রম চলে। পরবর্তী সম্মেলনের আগেই এসব তথ্য কেন্দ্রীয় দফতরে হালনাগাদের কথা সংশ্লিষ্ট শাখার। সবশেষ দলের ২২তম জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর। এর আগেই ২১ ও ২২তম সম্মেলনের মধ্যবর্তী সময়ের নতুন সদস্য ও নবায়নের তথ্য দফতরে জমা দেয়ার কথা ছিল। তবে কোনো শাখাই তা জমা দেয়নি। সেই জেরে ১৫ দিনের সময় দিয়ে গত ১৫ মার্চ এসব তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্চ মাসের মধ্যে ৭৮টি জেলা শাখার মধ্যে মাত্র তিনটি জেলা শাখা তথ্য জমা দেয়।
আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, দলের প্রাথমিক সদস্যসংখ্যা কত, সে-সংক্রান্ত তথ্য নেই। তবে আমাদের দলের ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। এর জন্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত দলের সব কমিটির নেতাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
এই ৭৮ জেলা শাখার অধীনে সারা দেশে প্রায় ৬৫০ উপজেলা শাখা রয়েছে আওয়ামী লীগের। সর্বশেষ এপ্রিল ও চলতি মাস মিলে ১৫টি শাখা দফতরে সদস্যদের হালনাগাদ তথ্য জমা দিয়েছে। তবে ঠিক কী সংখ্যক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন করে, তার তথ্য নেই বলে দফতর সূত্রে জানা গেছে।
দলের উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান বলেন, কিছু কিছু জেলার নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের হালনাগাদ তথ্য দফতরে জমা পড়েছে। বাকি জেলা শাখাগুলো শিগগিরই জমা দেবে।

