বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে রমনার বটমূলে ব্যাগ নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।
তিনি বলেন, সব অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেল চারটার মধ্যে রমনা ছাড়তে হবে। এছাড়া পয়লা বৈশাখে কোনো জঙ্গি হামলার হুমকি নেই।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ বরণ উপলক্ষে রমনা বটমূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিন স্তরের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমনা কেন্দ্রিক মোট নয়টি গেট থাকবে। এরমধ্যে চারটি গেট দিয়ে প্রবেশ করা যাবে, বাকি তিনটি গেট দিয়ে প্রবেশ-বাহির হওয়া যাবে। সবগুলো গেটে পুলিশ, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেকটর থাকবে। সবাইকে তল্লাশি করে রমনায় প্রবেশ করানো হবে।
খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, পহেলা বৈশাখে অনেক সময় দেখা যায় উঠতি বয়সী ছেলেরা ভুভুজেলাসহ বিভিন্ন উচ্চ শব্দ করে নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এ ধরনের শব্দ না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। ব্যাগ নিয়ে কেউ রমনা পার্কে প্রবেশ করতে পারবেন না। সবাইকে চেক-ইন করা হবে, তাই বাড়তি কোনো কিছু নিয়ে রমনায় আসবেন না।
রমনায় লোক সমাগম বেশি হলে বেরিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রমনা পার্ক সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ৪টার পর থেকে সব অনুষ্ঠান শেষ করে রমনাস্থল ত্যাগ করতে হবে। চারটার পর আর কাউকে রমনায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, পহেলা বৈশাখে ভুভুজেলাসহ বিভিন্ন উচ্চ শব্দ করে নগরবাসীর দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। প্রতি বছর ঢাকা মহানগর পুলিশ রমনা বটমূলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। আমাদের সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিট আন্তর্জাতিক মানের। যদি কোথাও বোম পাওয়া যায়, তাহলে সিটিটিসির রোবটিকস সিস্টেম ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে বোমা আইডেন্টিফাই করা যাবে। পরে রোবটের মাধ্যমে বোমগুলো নিষ্ক্রিয় করা যাবে। এর মধ্যে যদি কোনো দুষ্কৃতিকারী ঢুকে যান, তাহলে সোয়াত টিম সেই মহড়া দিয়েছে এবং তাদের সব ধরনের সক্ষমতা রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, আমি বাঙালি হিসেবে মনে করি, দুই একটা বোমা দিয়ে বাঙালিদের দমন করা যাবে না। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী তাদের দোসররা কামান-বন্দুক নিয়ে এই বাঙালিদের দমন করতে পারে নাই। আর কোথাকার কোন জঙ্গি একটা দুইটা বোমা মেরে আমাদেরকে দমন করবে আমরা ওইরকম ভীতুর জাতি নই, আমরা বীরের জাতি। কোনো জঙ্গি, কোনো শকুন আমাদের প্রতি নখ দেখাবে আমার সেই জাতি নয়।
তিনি বলেন, এরপরেও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। কেউ কোনো ধরনের দুঃসাহস দেখাতে পারবেন না।

