যশোরে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণাংকার নিয়ে চম্পট প্রবাসীর স্ত্রী

আরো পড়ুন

যশোরের সদর উপজেলার কামারগণ্যা এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণাংকার নিয়ে চম্পট দিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লিতুনজিরা।

রবিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন রফিকুল ইসলামের বাবা আলতাফ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমার বড় ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিকুল ইসলাম। প্রায় ১৪ বছর আগে সে মালয়েশিয়ায় যায়। আর ১০ বছর আগে দেশে নিয়ে এসে আমি পারিবারিকভাবে আমার ছেলেকে বাঘারপাড়া থানার শালবারটি গ্রামের সদর আলী মোল্যার মেয়ে লিতুনজিরার সাথে বিয়ে দিই। বিয়ের ৩ মাস পর আমার ছেলে ফের মালয়েশিয়ায় চলে যায়। ছেলের বউ আমাদের সাথে আমার গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করছিল। কিন্তু প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে আমরা বুঝতে পারি যে বউয়ের চালচলন ও আচার ব্যবহার সন্তোষজনক নয়। এমন সময় প্রথম নাতি ছেলে জন্ম নেয়। এরপর লিতুনজিরার কারণে ছেলের (রফিকুল) সাথে আমাদের পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। সংসারে একসাথে বসবাস করতে হলে খুটিনাটি বাঁধতেই পারে। সে সব কথা তিল কে তাল বানিয়ে বউ ও তার মা ছেলের কাছে ফোন করে আমার নামে ও আমার স্ত্রীর নামে আমার বাকী সন্তানদের নামে নানা কথা লাগায়। যার ফলে আমাদের সাথে ছেলের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর ফলে ছেলে আমাদের কাছে টাকা পয়সা না পাঠিয়ে বউমার কাছে ও তার শাশুড়ির কাছে সব টাকা পয়সা পাঠানো শুরু করে। কখনো বিকাশের মাধ্যমে, কখনো ব্যাংকিং চ্যানেলে আবার কখনো ব্যক্তির মাধ্যমে রফিকুল প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার করে টাকা পাঠিয়েছে। এছাড়া ঈদ কোরবানীর ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে বাড়তি টাকা পয়সাসহ সোনার অলংকার পাঠিয়েছে । এভাবে গত ১০ বছরে রফিকুল ওরফে পিকুল প্রায় অর্ধ কোটি টাকা পাঠিয়েছে স্ত্রী ও স্ত্রীর মায়ের নামে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই তিন মাসে রফিকুল বাড়ি করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলো স্ত্রীর কাছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া থেকে স্ত্রী ও ছেলের জন্য প্রায় ৮ থেকে ৯ ভরি স্বর্ণাংকার পাঠায় রফিকুল ।

তিনি বলেন, স্বামী বিদেশে থাকায় স্ত্রী লিতুনজিরা ঘর বাড়ির কাজে ব্যাপক অমনোযোগী হয়ে ওঠে। সে মোবাইল ফোন ও ফেসবুকে মারাত্মক আসক্ত হয়ে পড়ে। সে জড়িয়ে পড়ে একাধিক পরকীয়া প্রেমে। বছর দুই আগে স্থানীয় এক শিক্ষকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় শালিস বৈঠক পর্যন্ত হয়েছে। মানসম্মান আর সন্তানের কথা ভেবে সব মেনে নিয়ে সেই স্ত্রীকে নিয়েই সংসার করছিলো আমার ছেলে। লিতুনজিরা প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা নিয়ে ফুর্তি আর আড্ডায় মেতে ওঠে। সে একের পর এক পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। যা নিয়ে আমাদের সাথে তার বাকবিতন্ডা হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ছেলে নিয়ে লিতুনজিরা আলাদা সংসার পাতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকে পর পুরুষের সাথে। এসব খবর পেয়ে গত জানুয়ারি মাসে আমার ছেলে প্রবাসী রফিকুল দেশে আসতে চায়। স্বামীর দেশে ফিরে বসতে চাইলে, সে স্বামীকে ফোন করে সাফ জানিয়ে দেয় এই মুহুর্তে তার বাড়ি আসার দরকার নেই। আর সে যদি তার কথা না শুনে বাপ মার কথা বিশ্বাস করে, বাড়ি চলে আসে তাহলে সে ছেলের হাত ধরে যেদিকে মন চাই সেদিকে চলে যাবে। এই খবর শুনে রফিকুল ইসলাম বাড়ি আসার পরিকল্পনা থেকে সরে যায়। বিমান টিকিট করলেও তা অর্ধেক দামে ফেরত দিয়ে কাজ করতে থাকে সুদর মালয়েশিয়ায়। ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বামীকে দেশে ফেরত আসা ঠেকিয়ে দিয়ে লিতুনজিরা আবারো পরকীয়ায় মত্ত হয়ে ওঠে। সে তার চাচাত খালার মাধ্যমে বিশেষ বাহিনীর একজন সদস্যের সাথে পরকীয়ায় মেতে ওঠে। যা নিয়ে গত মাসে তার সাথে বড় আকারের ঝগড়াঝাটি হয়। এই ঘটনার পর দিন সন্ধ্যার দিকে বাড়ি করার জন্য আমার ছেলের পাঠানো সব টাকা পয়সা, সোনাদানা এবং ব্যবহার্য সব কাপড় চোপড় নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় পাশের মাদরাসায় হেফজ পড়া ছেলেকে সাথে করে নিয়ে যায়। ওই রাতেই বহু খোঁজাখুজির পর বউমাকে না পেয়ে পর দিন। মাদরাসায় গিয়ে আমরা জানতে পারি আমার নাতি ছেলেকে তার মা সাথে করে নিয়ে গেছে। এ খবর পেয়ে আমরা ছেলের সাথে মালয়েশিয়ায় যোগাযোগ করে সব খবর জানায়। ছেলের কথা মতো আমি বউমার বাপের বাড়ি শালবারটি গ্রামে যাই। কিন্তু বউ মা আমাকে সাফ জানিয়ে দেয় যে, সে আর স্বামীর ঘর করবে না। ছেলে ফাহিমকে সে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছে। এসব কথা শুনে আমি বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ি। কয়েকদিন যেতে না যেতেই স্ত্রী লিতুনজিরা স্বামী রফিকুল ইসলাম ওরফে পিকুলকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে সব সম্পর্কের অবসান ঘটায়। এসব ঘটনার পর আমি বাদী হয়ে যশোর বাঘারপাড়া থানায় ও কোতয়ালী থানায় পুত্রবধূর সব অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করি। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে ৯ মার্চ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত, সদর কোর্টে একটি মামলা করি। যার নম্বর সিআর- ৫১৪/২০২৩। আদালত মামলা রেকর্ড করে আগামী ৫ জুনের মধ্যে ঘটনার তদন্তপূর্বক আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য যশোর কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ হোসেন আরো বলেন, আমার ও আমার ছেলের জীবন অতিষ্ঠ করে বাড়ি করার জন্য জমানো সব টাকা পয়সা ও সোনারগহনা নিয়ে রাতের অন্ধকারে লিখুনজিরা পর পুরুষের হাত ধরে পালিয়ে গেছে। আমার ছেলে একজন প্রবাসী। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আয় রোজগারের সব টাকা স্ত্রীর হাতে তুলে দিতো। কখনো ব্যাংকের মাধ্যমে কখনো বিকাশের মাধ্যমে সব টাকা পাঠিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ হোসেন আরো বলেন, লিতুনজিরা প্রায়ই পর পুরুষের সাথে মোবাইলে কথা বলতো। স্বামী বিদেশ থেকে টাকা গহনা পাঠাতো আর ওদেশে থেকে সাজগোজ করে পর পুরুষের সাথে মেলামেশা করতো। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলেই অশান্তি আর ঝগড়া ঝাটি করতো। শেষ পর্যন্ত প্রবাসী স্বামীকে পথে বসিয়ে তার পাঠানো বাড়ি করার সব টাকা, পোষাক ও গহনা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ