দিল্লি ও মুম্বাইয়ে বিবিসির অফিসে আজ দ্বিতীয় দিনেও অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন ভারতের আয়কর কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান অভিযান আজও চলছে। এদিকে সম্প্রচার চালু রাখতে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার আহবান জানিয়েছে বিবিসি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্র প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পর গণমাধ্যমটির কার্যালয়ে অভিযান চালায় ভারতের আয়কর কর্মকর্তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবিসি তাদের কর্মচারীদের একটি ই-মেল করে তাদের সম্প্রচার বিভাগ ছাড়া সবাইকে বাড়ি থেকে কাজ করার আহবান জানিয়েছে।
ই-মেল বার্তায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত আয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা উত্তর দওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। কিন্তু তাদের বেতন সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। কর কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, আমরা বিশ্বজুড়ে মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্বকে সমর্থন করি। আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার গুরুত্বকে মানবাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছি, যা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখে। এটি একটি দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এটা ভারতের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানিয়েছে, আজ আয়কর কর্মকর্তারা অ্যাকাউন্টগুলোতে ফোকাস করবেন এবং বিবিসির সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করবেন।
২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদি কোশ্চেন’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি)। গত ১৭ জানুয়ারি দুই পর্বের তথ্যচিত্রটির প্রথম পর্ব লন্ডনে প্রকাশ করেছে বিবিসি। এরপর ২৪ জানুয়ারি দেখানো হয়েছে দ্বিতীয় পর্ব।
‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদি কোশ্চেন’ তথ্যচিত্রের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর ২১ জানুয়ারি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকার এই তথ্যচিত্রের ভিডিও লিংক ব্লক করার জন্য ইউটিউব ও টুইটারকে নির্দেশ দেয়।
এরপর গোটা ভারত উত্তাল হয়ে ওঠে। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রদর্শিত হতে থাকে তথ্যচিত্রটি। এর প্রদর্শনী বন্ধ করতে পুলিশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চড়াও হয়। আটক করে অনেক শিক্ষার্থীকে।

