যশোর জেলার অভয়নগরে রকিব হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি চরমপন্থী ক্যাডার সোলায়মান মোল্লা ওরফে জুয়েলকে (২৮) গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার সোলায়মান মোল্লা ওরফে জুয়েল খুলনার ফুলতলা উপজেলার জামিরা গ্রামের শাহজাহান মোল্লার ছেলে।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে ঢাকা থেকে আটকের পর রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে অভয়নগর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রূপন কুমার সরকার জানান, গত বছর ১২ মে রাতে অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতী গ্রামে রাস্তার উপর রকিবুল ইসলাম রকিব নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
একই এলাকায় গত ১১ জানুয়ারি সকালে মাছ ব্যবসায়ী সুব্রত মণ্ডলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর রকিব হত্যা মামলা তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মামলা তদন্তকালে গোয়েন্দা পুলিশ ছয় আসামিকে গ্রেফতার ও অস্ত্রগুলি উদ্ধার করেছে। তবে ঘটনার অন্যতম আসামি জুয়েল, রাজু ও সাগর পলাতক ছিল।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ শনিবার বিকেলে ঢাকার সাভার থানাধীন নিমেরটেক নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে রকিবুল হত্যার অন্যতম পলাতক আসামি নিউ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সোলায়মান মোল্লা ওরফে জুয়েলকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রোববার ভোরে অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতি গ্রামের পলাতক আসামি জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়ার বাড়ির গোয়ালঘর সংলগ্ন কক্ষে বালির বস্তা থেকে ১টি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ধরা পড়া ও পলাতক আসামিরা সংঘবদ্ধ নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন নিউ কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য। তারা খুলনা ফুলতলার শিমুল ভুইয়ার নির্দেশে দত্তগাতি সাইফুল আলম মেম্বারের নেতৃত্বে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির জন্য রকিবুল ইসলাম, সুব্রত মন্ডলকে হত্যা করেছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ওসি রূপান কুমার সরকার।

