চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালককে মারধর ও কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় চার ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আছেন।
রবিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার চারজন হলেন- সঞ্জয় ভৌমিক কংকন, সুভাষ দে, ফিরোজ ও মাহমুদুল্লাহ।
এদের মধ্যে কংকন নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বলয়ে ছিলেন। ২০১৫ সালে আ জ ম নাছির উদ্দীন চসিকের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কংকন ওই বলয়ে যোগ দেন। এখন তিনি নিজেকে আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন।
গ্রেফতার সুভাষ দে আওয়ামী ঘরানার এবং বাকি দুইজন বিএনপি ঘরানার ঠিকাদার হিসেবে চসিকে পরিচিত বলে জানা গেছে।
প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে ভাংচুরের ঘটনায় রবিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এর আগে, রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী ভবনের চতুর্থ তলায় নিজ কার্যালয়ে হামলার শিকার হন প্রকল্প পরিচালক গোলাম ইয়াজদানি। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। অবকাঠামো উন্নয়নে চসিকের ২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকার অনুমোদন দেয়ার পর ইয়াজদানিকে এর পরিচালক (পিডি) করে চসিকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় গত ডিসেম্বরে ২২০ কোটি টাকার ৩৭টি উন্নয়ন কাজ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ভাগ করে দেয়ার অভিযোগ তুলে প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে ঢুকে ভাংচুরের পাশাপাশি তাকে বেধড়ক পেটান একদল ঠিকাদার। নাজিম, সুভাষ, শাহাব উদ্দিন, সঞ্জয় ভৌমিক কংকন, হাবিব ও মোহাম্মদ ফেরদৌসের নেতৃত্বে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন ঠিকাদার হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছিলেন ইয়াজদানি।
তবে ঠিকাদার সঞ্জয় ভৌমিক কংকন ঘটনার পর জানিয়েছিলেন, প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে, মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।

