যশোরের সদর উপজেলায় নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আর তিনজন অসুস্থ হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
মারা গেছেন, উপজেলার আবাদ কচুয়া গ্রামের মৃত আবদুল হামিদের ছেলে ইসলাম (৪৫) ও শাহজাহান আলীর ছেলে জাকির হোসেন (২৯)।
অসুস্থরা হলেন, আবাদ কচুয়া গ্রামের আবু বক্কর মোল্লার ছেলে কাশেম (৫৫) সিতারামপুর গ্রামের মনিরুদ্দীনের ছেলে বাবলু (২৮) এবং একই গ্রামের আনোয়ার মোড়লের ছেলে রিপন হোসেন (৩৬)।
স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাত ১১টায় দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা পাঁচজনকে গ্রাম্য চিকিৎসক দিয়ে বাড়িতে রাখেন। পরে ইসলাম (৪৫) শারীরিক অবস্থায়র অবনতি হলে স্বজনরা বৃহস্পতিবার ভোরে তথ্য গোপন করে (সিভিডি) রোগী উল্লেখ করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে ইসলাম মারা যান। মৃত সনদ না নিয়ে পরিবার সদস্য তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করেন। একই ভাবে তথ্য গোপন করে শুক্রবার সকালে জাকির হোসেন (২৯) যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুপুরে দিকে জাকির হোসেন মারা যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ও অসুস্থরা গত ২৫ জানুয়ারি রাতে আবাদ কচুয়া থেকে হামিদপুর সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে আরমান হোসেনের মেহগনি বাগানে ৫ জন মিলে নেশা জাতীয় দ্রব্য (অ্যালকোহল বা ফেনসিডিল) পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদেরকে গ্রাম্য চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। বিষয়টি এলাকাবাসির মধ্যে গুঞ্জন উঠলে বিষয়টি ছড়িয়ে যায়। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইসলাম ও জাকিরের মৃত্যু হয়।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুর রশিদ জানান, স্বজনরা তথ্য গোপন করে রোগীকে ভর্তি করেছেন। তবে রোগীর মুখে গন্ধ থেকে বুঝা যায়। অতিরিক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ার ফলে সকলে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তমিজুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর তথ্য মতে অসুস্থ ও মৃতরা অতিরিক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য খেয়ে ছিলেন। কিন্তু মৃত ও অসুস্থ রোগীর স্বজনরা তাদের রোগের ইতিহাস গোপন করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না নিয়ে স্বজনরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। পুলিশ লাশ হেফাজনে নেয়া চেষ্টা করছে।

