চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম কাবাসহ তিনজনকে আটক করেছে।
শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে শহরের রেলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে একই দিন রাত ১১টার দিকে মিরাজুল ইসলাম কাবার ভাই জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম আসমানের বাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
আহতরা হলেন, শহরের রেলপাড়ার শাহিনের ছেলে হাসিব (২০), একই পাড়ার আক্তারুজ্জামানের ছেলে ছাবিদ (২০), হাফিজুর রহমানের মেয়ে আসমা খাতুন (৪২) ও আবুল কালামের মেয়ে বৃথি খাতুন (২৫)। তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বেশ কিছুদিন পূর্বে শহরের ফার্মপাড়ার বাধনের সঙ্গে হাসিবের কোনো কারণে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে হাসিব, ছাবিদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে অভিযুক্তরা। এ সময় হাসিবের ফুফু আসমা খাতুন ঠেকাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। মাকে কুপাতে দেখে মেয়ে বৃথি প্রতিবাদ করলে তাকেও বেধড়ক মারধর করে অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে মিরাজুল ইসলাম কাবা, তার ভাই নান্টু ও বাধনকে আটক করে সদর থানা পুলিশ।
এদিকে এঘটনার পর তার ১১টার দিকে যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আসমানের বাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাসিব, ছাবিদ ও আসমার শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারাল অস্ত্রের কোপের জখম রয়েছে। ক্ষতস্থানে সেলায় করা হয়েছে। এছাড়াও বৃথির শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে ভর্তি করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহব্বুর রহমান বলেন, পূর্ব শক্রতার জেরে নারীসহ তিনজন ধারাল অস্ত্রের কোপে জখম হয়েছেন। আরও এক নারীকে মারধর করেছে বলে জেনেছি। এ ঘটনার পরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বাড়ি ভাঙচুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাত ১১টার দিকে রেলপাড়ার সিরাজুল ইসলাম আসমান নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। বাড়ির মেইন দরজা ও বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙা দেখতে পাই। কে বা কারা ভাঙচুর করেছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

