বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর যুগপৎ সব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো মাঠে থাকার কৌশল নিয়েছে। কারও কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি নয়, বরং বিএনপি-জামায়াতের ‘অপরাজনীতি ও নাশকতা’ থেকে দেশের মানুষ, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার জন্য রাজপথ দখলে রাখবে ক্ষমতাসীন দল। রাজধানী ও এর বাইরেও নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে একের পর এক কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। বিভাগীয় শহরে সমাবেশ শেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করে বিএনপি। এরপর ২৪ ডিসেম্বর সারা দেশে এবং ঢাকা ও রংপুরে গণমিছিল করে ৩০ ডিসেম্বর। গণমিছিল থেকে ১১ জানুয়ারি সব বিভাগীয় শহরে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি ও সমমনাদের এসব কর্মসূচি পর্যবেক্ষণে রাখছে ক্ষমতাসীন দল।
সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়িয়ে বিএনপির ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিল ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল আওয়ামী লীগ। গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের দিন ঢাকায় ব্যাপক শোডাউন করে ক্ষমতাসীন দল। পাড়া-মহল্লার প্রতিটি মোড়ে অবস্থান নেয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সতর্ক অবস্থানে ছিল। আগামীতেও বিরোধীদের সব কর্মসূচি ঘিরে সে রকম পাহারা থাকবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতায় বিএনপিকে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। বেশি লাফালাফি করলে দলটিকে আর কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আমরা আক্রমণ করব না। তবে আঘাত এলে পাল্টা আঘাত হবে কিনা, তা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে রাজনীতির ক্ষেত্রে হচ্ছে বিরোধী দল বিএনপির সাংঘর্ষিক রাজনীতি, তার মিত্রদের দেশবিরোধী অপতৎপরতা, বিদেশিদের পদলেহন এবং তাদের কাছে ধরনা দেওয়া। এগুলো করে তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। কিন্তু সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে এখন বিএনপি নিজেই বেকায়দায় পড়ে গেছে। এর কারণ, তারা ভেবেছিল ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনের সামনে সমাবেশ করে তারা একটি বিশৃঙ্খলা করতে পারবে। সেটি তারা পারেনি এবং বুঝতে পেরেছে তাদের শক্তি এবং সামর্থ্য কতটুকু।
তিনি বলেন, এরপরও বিএনপি চেষ্টা করবে এ বছরও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। তবে ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে আমরা তাদের সর্বোচ্চ অস্থিতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা দেখেছি এবং সেগুলো মোকাবিলা করা হয়েছে। সুতরাং তারা কী করতে চায়, কী করতে পারে, সেটি নিয়ে আমাদের ধারণা আছে। সেটি মোকাবিলা করার প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা দুটিই আমাদের আছে। সুতরাং, সেটি আমাদের কঠিন কোনো কাজ নয়।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে কয়েকটি স্পটে বিভক্ত করে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতারা অবস্থান করবেন, সমাবেশ করবেন। রাজধানী ছাড়াও সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা ব্যাপক শোডাউন করবে।
এখনই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চিকিৎসা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরলে সব সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। এবারের বিএনপির কর্মসূচি সারা দেশব্যাপী হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকেও সারা দেশে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মী সতর্ক অবস্থায় থাকব। সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো যে কোনো সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্য কর্মকাণ্ড, জ্বালাওপোড়াও, অগ্নিসন্ত্রাস রুখতে মাঠে থাকবে। কেউ যাতে রাজনীতির নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য পাহারায় থাকবে আমাদের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি-জামায়াত জোট অপরাজনীতি করে, তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারক ও বাহক উল্লেখ করে নাছিম বলেন, আমরা কারও কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে চাই না, কর্মসূচিতে বাধা দেয়ারও ইচ্ছা নেই। তবে রাজনীতির নামে যাতে মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য আমাদেরও কর্মসূচি থাকবে।

