যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৭নং নাভারণ ইউনিয়নের উত্তর দেউলী গ্রামের শতদল পাঠাগার প্রাঙ্গণে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছির ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ‘শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ‘সেভ দ্য ট্র্যাডিশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ নামের একটি নন-প্রোফিট অর্গ্যানাইজেশন।
৩১শে ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ, গুড় ও গাছি পেশা রক্ষা আন্দোলন কর্মী মোহাম্মদ আবু বকর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক হোসেনউদ্দীন হোসেন বলেন, “খেজুর গাছ শুধু ঐতিহ্য নয়, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় খেজুর গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এখন আমাদের খেজুর গাছ রোপণের দিকে নজর দিতে হবে। আর যদি উদ্যোক্তা তৈরি করে এটাকে শিল্পে রুপান্তর করা যায় তাহলে যশোরের ঐতিহ্যটাকে টেকসই করা সম্ভব।”
তিনি আরো বলেন, “ বিলুপ্তপ্রায় যশোরের খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য নিয়ে যে তরুণ ছেলেমেয়েরা ভাবছে এটা নিঃসন্দেহে ভালো দিক। এখন আমাদের উচিত, সরকারের উচিত এগিয়ে আসা।”

স্থানীয় গাছি ইউনুস আলী (৭৯) বলেন, “খাজুর গাচ ও গাছি দিন দিন কুমে যাচ্চে। তারপরও আমরা যারা খাজুর গাচ কেটে রস গুড় বানাতে চাই, খাজুর গাচের অভাবে তা সম্ভব হচ্চে না।
তিনি আরো বলেন, এতোদিন তো এবিষয়ে কারো কোন উদ্যোগ নিতি দেকিনি। সবাই চেষ্টা কললি আমাগের যশোরের ঐতিহ্যটা বাঁচিয়ে রাকা সম্ভাব।”
অনুষ্ঠানে মোছাঃ রিপা ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ৭নং নাভারণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান আলী, প্রধান আলোচক অধ্যাপক মোঃ নাসির উদ্দীন, সহকারী অধ্যাপক কে এম ঈদ্রিস আলী, আর এ মাসুদ, মোঃ মতিয়ার রহমান, ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন ।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য ট্র্যাডিশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’র দপ্তর সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কেয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য ঈশিতা আক্তার নোভা, সুপ্রকাশ বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য যে, ‘সেভ দ্য ট্র্যাডিশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ বিগত কয়েক বছর ধরে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ রোপণ, রস-গুড় ও গাছি পেশা রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। গাছিদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে।
জাগো/আরএইচএম

