নতুন বছরের শুরুতেই শূন্য আসনের তালিকা প্রস্তুত করে নতুন আরো এক লাখ শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের আগেই সব স্কুল এবং কলেজে শতভাগ শিক্ষক নিয়োগের অংশ হিসেবেই সরকার চাইছে শূন্য পদে সব শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময়ে নানা আনুষ্ঠানিকতা আর কয়েক দফায় পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সম্প্রতি ৩৭ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর পরেও প্রায় ১০ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর ফের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে সেটি বিভাগভিত্তিক বা ক্লাস্টারভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় এক লাখ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহাম্মদ গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের জানান, দেশে এই মুহূর্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজার। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৭৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এ দিকে নতুনভাবে নির্বাচিত বা নিয়োগ পাওয়া উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব সনদের মূলকপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ৩ কপি, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (যথাযথভাবে পূরণকৃত), সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০২০ সালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির অনুমোদিত পদ অনুসারে ৩২ হাজার ৫৭৭ পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও এটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। চলতি বছরের মার্চে মন্ত্রণালয়ের এক সভায় সাংবাদিকদের বলা হয়েছিল, ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নেয়া হবে। অবসরের কারণে ১০ হাজারের বেশি পদ খালি হওয়ায় পদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
কিন্তু লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে পদসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। পদ বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করেন চাকরি প্রার্থীরা। চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চসংখ্যক শূন্য পদে নিয়োগ এবং পদসংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে ৬১ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্মারকলিপিও দেন চাকরি প্রার্থীরা। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী গত ১৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। নতুন নিয়োগে অনুমোদিত পদের সঙ্গে আরো পাঁচ হাজার বাড়ানো হয়েছে।
জাগো/আরএইচএম

