প্রয়োজন হলে বাড়তি নিরাপত্তা পাবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

আরো পড়ুন

প্রয়োজন দেখা দিলে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কে আবদুল মোমেন।

পাঁচ দিন আগেও ওই ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রয়োজনে অধিকতর নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এমন কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর তেজগাঁওয়ে গুম হওয়া বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ‘মায়ের ডাক’ নামের একটি সংগঠনের সমন্বয়কের বাসায় গিয়েছিলেন পিটার হাস। পরে সেখানে ‘মায়ের কান্না’ নামের সংগঠনের সদস্যরা সড়কে দাঁড়িয়ে পিটার হাসকে স্মারকলিপি দিতে গেলে তিনি না নিয়ে দ্রুত পুলিশি পাহারায় এলাকা ছাড়েন।

বিষয়টি নিয়ে জল অনেকদূর গড়িয়েছে। উদ্বেগ জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। এমন অবস্থায় একজন রাষ্ট্রদূতকে রাস্তায় ধরে স্মারকলিপি দেওয়া কোনো সঠিক প্রক্রিয়া নয় বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী মোমেন বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এক বাসায় গিয়েছিলেন, আমরা তার কিছুই জানতাম না। তিনি মায়ের ডাকে গিয়েছিলেন, মায়ের কান্না শুনে আসলেন। সেদিনের ঘটনায় তিনি যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়েছিলেন। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করেছি যে কেউ তার অনিষ্ট করেছে কি না। তিনি বলেছেন না। তিনি বলেছেন তার সঙ্গে পুলিশ প্রটেকশন ছিল। তারা তাকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা আশা করি সব কূটনীতিকরা তাদের আইন-কানুন জানেন। কী করতে হবে, না হবে তারা জানেন। আমরা রাষ্ট্রদূতকে বলেছি যে সরকার অবশ্যই আপনার পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে। অধিকতর নিরাপত্তা লাগলে তাও দেবে।

পিটার হাসের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানিয়েছে উল্লেখ করে আবদুল মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রাষ্ট্রদূতের ওদের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে ফোনে আলাপ করার কথা ছিল। যেদিন আলাপ করার কথা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে রাষ্ট্রদূতকে বলা হলো যে আপনি চলে আসেন। এটা ঠিক তলব না। আগে থেকেই একটা প্রোগ্রাম ছিল টেলিফোনে আলাপের। ওরা পরে সাক্ষাৎ করতে চাইল।

ওই সাক্ষাতের বিষয়বস্তুর কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে ওরা দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলাপ করেছে। আর বলেছে ঢাকায় তাদের রাষ্ট্রদূত নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা আতঙ্কিত। আমাদের রাষ্ট্রদূত বলেছেন যে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরাও আগেই আমাদের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছিলাম এখানকার ঘটনাটা সম্পর্কে।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূতকে রাস্তায় ধরে আপনি স্মারকলিপি দেবেন এমন কালচার তো নেই। আমরা সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করি। সবকিছুর একটা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আছে। আমরা সেটাকেই উৎসাহিত করি।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আবদুল মোমেন বলেন, এটা ছোটখাটো ঘটনা, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ব্যাপ্তি অনেক বিস্তৃত ও গভীর।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ