সীমান্ত এলাকা দেখাতে নিয়ে গিয়ে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় এক তরুণীকে বন্ধুদের নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিকসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার প্রেমিক রাসেল মিয়া ও তার বন্ধু সেলিম মিয়াকে রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে নেত্রকোনা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
রাসেল কলমাকান্দা উপজেলা সদরের মাছ মহাল এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক। অন্য আসামী সেলিম মিয়া উপজেলার মুক্তিরচর গ্রামের বাসিন্দা।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে শনিবার দিবাগত রাতে ৪ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলার বাদি ধর্ষণের শিকার তরুণী নিজেই। এরইমধ্যে রবিবার ভোরে মামলার প্রধান আসামি রাসেল ও ৪ নম্বর আসামি সেলিমকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও ওই তরুণীর বরাতে জানা গেছে, রাসেল মিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ওই তরুণীর। এরই সুবাদে গত ২২ নভেম্বর রাসেল ওই তরুণীকে উপজেলার সন্যাসীপাড়া সীমান্ত এলাকার পাতলাবন দেখাতে নিয়ে যান। সেখানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে সন্ধ্যা হলে ওই তরুণী বাড়ি ফেরার কথা বললে নানা বাহানায় সময়ক্ষেপণ করেন রাসেল। এরপর নিরাপত্তার কথা বলে রাসেল তার তিন বন্ধু সেলিম মিয়া, সাইকুল মিয়া ও সুমন সাহাকে ডেকে নেন। এ সময় তারা স্থানীয় একটি নদীর তীরে হাঁটার পথে এক পর্যায়ে ওই তরুণীকে ঝোঁপে নিয়ে তিন বন্ধুর সহায়তায় ধর্ষণ করে রাসেল। পরে একে একে তার বন্ধুরাও ধর্ষণ শেষে তরুণীটি অজ্ঞান হলে সবাই তাকে ফেলে রেখে চলে যান। পরে জ্ঞান ফিরলে তরুনীটি তার বোনকে মোবাইল করে ঘটনাটি জানালে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা।
এদিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার দুদিন পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ওই তরুণী। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কলমাকান্দা থানাকে মামলা রুজুর নির্দেশ দিলে শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় মামলা মামলাটি রুজু করে কলমাকান্দা থানা পুলিশ।
তবে ওই তরুণী আগে থানায় মামলা করতে যাননি বলে জানান কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ খান।

