কঙ্গোতে বন্যা ও ভূমিধসে ১২০ জনের মৃত্যু

আরো পড়ুন

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অনেকে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কিনশাসা ও আশপাশের এলাকাগুলো কাদা পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে। ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো দিন চারেক সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ-মিশেল সামা লুকোন্দে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনো উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন কর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মানুষদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস। অব্যবস্থাপনা আর অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ শহরটিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে ফেলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দুর্যোগ আরো বাড়ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, কিনশাসা ও আশপাশের প্রায় ২৪টি এলাকার ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত। যেখানে অনেক মানুষের প্রাণহানি ও ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, কিনশাসা এবং আশপাশের এলাকা কাদা পানিতে প্লাবিত এবং রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মন্ট-এনগাফুলা জেলার প্রধান একটি মহাসড়কে ভূমিধসের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এটি রাজধানীকে মাতাদি বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান রুট।

এদিকে কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী ও আঞ্চলিক গভর্নর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় স্থানীয় কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালে কিনশাসায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। সেবার বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়।

২০২০ সালের বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যায় পরিবহন খাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে কিনশাসায় প্রতিদিন পরিবারগুলোকে ১২ লাখ ডলার খরচ করতে হয়।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ