তুলির আঁচড়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরতে শিল্পীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শিল্পীদের প্রতিবাদের ভাষা শিল্পকর্ম। সৃজনশীলতার বার্তা যুদ্ধের বিপক্ষে শান্তির পক্ষে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ১৯তম এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রদর্শনীতে ১১৪টি দেশের ৪৯৩ জন শিল্পী অংশ নিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি যেকোনো দেশের আত্মপরিচয় বহন করে। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে একটি দেশের ইতিহাস-ঐহিত্য ফুটে ওঠে।
যুদ্ধ বন্ধে শিল্পীদের ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা সব সময় শান্তির পক্ষে। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, একদিকে করোনা মহামারি এবং আরেক দিকে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ; যেটা আসলে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। এ জাতীয় যুদ্ধ যেনে না হয় সেজন্য শিল্পীদের ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে শিল্পীরা ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পীর তুলির আঁচড়ে একটি দেশ ও জাতির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উঠে আসে। মানুষের চেতনাকে ঋদ্ধ করে। আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের সংগ্রামও প্রাণ পেয়েছিল শিল্পীর আঁচড়ে। বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের শিল্পীরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের পরে একুশ বছর পর আমরা সরকার গঠন করার সুযোগ পাই। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে শিল্পকলা একাডেমি যাতে আরো সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে তার মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করি। সেখানে জাতীয় নাট্যশালা, এক্সপেরিমেন্টাল স্টুডিও থিয়েটার, সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন, চারুকলা মিলনায়তন, নন্দন ও উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা ৬৪ জেলায় শিল্পকলা একাডেমির নতুন ভবন তৈরি করে দিয়েছি। ৪৯৩টি উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি স্থাপন করা হয়েছে। আমরা সংস্কৃতির সেবা একেবারে তৃণমূলের মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই। একদিকে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করছি, পাশাপাশি শিল্পী মনের বিকাশ যাতে হয় সে পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি।
১৯তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমাদের শিল্পীদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।

