আগামীকাল ছাত্রলীগের সম্মেলন, শীর্ষ ২ পদে প্রার্থীর ছড়াছড়ি

আরো পড়ুন

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন আগামীকাল মঙ্গলবার। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের পর ঘোষণা করা হবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নতুন নেতৃত্ব।

ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২৫৪ জন। তাদের মধ্যে ৯৬ জন সভাপতি ও ১৫৮ জন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।

গত তিন সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে শীর্ষ নেতা নির্বাচিত বা মনোনীত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এবারও এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব মনোনীত করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। ফলে জাতীয় সম্মেলন ঘিরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

ছাত্রলীগের সম্মেলন কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ব্যক্তিগত কার্যালয়, দলীয় কার্যালয় ও বাসায়। প্রতিদিনই সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভিড় করছেন শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা। ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের চার জ্যেষ্ঠ নেতা, ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং নিজেদের এলাকার (গ্রামের বাড়ি) প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছেও নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রার্থীদের অনুসারীরা তাদের ব্যাপারে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এবার কোন প্রক্রিয়ায়, কীভাবে ও কারা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসবেন, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রার্থী ও সাধারণ নেতা-কর্মীদের অনেকের ধারণা, প্রার্থীদের সম্পর্কে গোয়েন্দা প্রতিবেদন (প্রার্থীর ভাবমূর্তি ও পারিবারিক রাজনৈতিক মতাদর্শ), গ্রামের বাড়ি (ছাত্রলীগের রাজনীতি অঞ্চলভিত্তিক), নানা মাধ্যমে খোঁজখবর ও বড় নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশ-এই তিন বিষয়কে সমন্বয় করে সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনাই শীর্ষ নেতা ঠিক করবেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন নেতৃত্ব মনোনয়নে নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারে-এই ধারণায় প্রার্থীদের বেশির ভাগই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে।

আলোচনায় প্রার্থীর সংখ্যা

শুধু এবারের সম্মেলনেই যে ছাত্রলীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, তা নয়। এর আগের তিন সম্মেলনেও শীর্ষ দুই পদের জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন কয়েক শ নেতা। তবে শেষ মুহূর্তে বেশির ভাগই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান অন্তত ১২ জন নেতার ভাষ্য, কেউ কেউ শুধু অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই প্রার্থী হন। এ ছাড়া অনেকেই নিজেদের ফেসভ্যালু বাড়ানোর জন্য প্রার্থী হন। তা ছাড়া প্রতি সম্মেলনেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ ৫ বা ১০ পদের নেতাদের নাম একসঙ্গে ঘোষণার একটি আলোচনা থাকে। কেউ কেউ প্রার্থী হিসেবে দৌড়ঝাঁপ করে শীর্ষ পাঁচ বা দশে নাম লেখাতে চান। সেটি না হলে পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ভালো পদ পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রার্থী হয়ে পরিচিতি বাড়াতে চান কেউ কেউ।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দুই বছর পরপর ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও কখনো তা হয়নি। নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় প্রার্থীর সংখ্যা এত বেশি হয় বলে মনে করেন সাবেক-বর্তমান বেশির ভাগ নেতা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ