চৌগাছায় বিভিন্ন দোকানপাটে গভীর রাত অবধি জুয়া খেলা

আরো পড়ুন

যশোরের চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন বাজার, মোড়ে ও চায়ের দোকানে চলছে গভীর রাত পর্যন্ত জুয়া খেলা। জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে বাড়ছে পারিবারিক কলহ। জুয়ার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।

পুলিশের পক্ষ থেকে বারংবার অভিযান পরিচালিত হলেও থামছেনা এই জুয়া খেলা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের আরো কঠোর হয়ে জুয়া বন্ধের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, চৌগাছা পৌর সদরের কাশিপুর ইজিবাইক স্ট্যান্ডে মগরবের চায়ের দোকান, পাইকারী তরকারী বাজার রেখে দেওয়া খাট, শাহাদৎ পাইলট স্কুল মাঠ, ইছাপুর বটতলা, জামতলা শ্রমিক অফিস সংলগ্ন, ছুটিপুর বাস স্ট্যান্ডসহ মাশিলা বাজারের বটতলা, সামছুলের দোকান, পুরাতন আল-আমিন হেটেল, মাধবপুর গ্রামের চঞ্চলের দোকান, পুড়াপাড়া, রামকৃষœপুর, আন্দুলিয়া, খড়িঞ্চা, কমলাপুর, চাদপাড়া, নারায়নপুর, হাজরাখানা, আড়পাড়া, মাড়–য়া, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, গরীবপুর (নিউ মার্কেট), কাবিলপুরসহ হাকিমপুর বাজারের একাধিক দোকানে চলছে জুয়া খেলা।

বিভিন্ন কৌশলে বড় অংকের টাকা, মারবেল, চকলেট এমনকি বিস্কুটের বিনিময়েও চলে এই খেলা। খেলাতে জয়ী হওয়া মারবেল, চকলেট, বিস্কুটের বিনিময়ে টাকা নেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে আসর বসানো দোকান গুলোতে। একই সাথে টাকার বিনিময়েও এই খেলা হচ্ছে। তাস খেলার নামে জুয়া খেলা দেখেও এলাকার মানুষ মনে করে স্বাভাবিক সময় কাটানো বা আনন্দের জন্য এই খেলা করা হচ্ছে।

অথচ পুলিশ ও এলাকার মানুষের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে টাকা ও বিভিন্ন পন্যের বিনিময়ে এই খেলা অব্যহত রয়েছে। হারজিতের এই খেলা জেদে পরিনত হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত গড়াচ্ছে তাস খেলা। ফলে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের মশিয়ার নগর গ্রামের শরিফুলের দোকানে সন্ধা থেকে শুরু হচ্ছে জুয়ার আসর। তিনতাসের মাধ্যমে হচ্ছে এই জুয়াখেলা। সন্ধায় শুরু হলেও এই খেলা চলছে গভীর রাত পর্যন্ত।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার পানিও দ্রব্যের বিনিময়েও চলছে জুয়া খেলা। একই ইউনিয়নের মল্লিকবাড়ির বিল্লালের দোকান চলছে জুয়া খেলা। জুয়া খেলার অভিযোগ থানা পুলিশ সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করলেও থেমে নেই জুয়া খেলা। এছাড়া সিংহঝুলী গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ময়নুর রহমান গ্রামের বটতলায় নিজের দোকানের সামনে ও কামালের দোকানের সামনে বসানো হয়েছে জুয়া খেলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবারের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, পরিবারের প্রধান প্রতিনিয়ত জুয়াখেলা করছে। সারাদিন পরিশ্রম করে ৪/৫’শ টাকা আয় করে সন্ধার পর ওই টাকা জুয়ার পিছনে শেষ করছে।

এক জুয়াড়ির স্ত্রী জানান, রাত ২/৩ টার আগে আমার স্বামী বাড়ী আসেনা। লোকজন দিয়ে খবর নিলে জানতে পারি সে তাস খেলা করছে। তাস খেলার কথা জানতে চাইলে মারধর করে। এই খেলা নিয়ে পরিবারে আমার কোন শান্তি নেই। জুয়াখেলা নিয়ে পারিবারি দ্বন্দের বিষয়টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন আলম চৌধুরী বলেন, জুয়ার বিরুদ্ধে বারবার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে মল্লিকবাড়ি ও মশিয়ার নগর সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাস খেলা বন্ধ করেছি। তারপরও যদি জুয়া খেয়া কেউ অব্যাহত রাখে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাগো/আরএইচএম

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ