নিজস্ব প্রতিবেদক : ডাকাত আতঙ্কে যশোরের মানুষ, রাতভর গ্রামে গ্রামে পাহারাবাঘারপাড়ার ওয়াদিপুর গ্রামে চলছে রাতভর পাহারা- ফেসবুক সম্প্রতি ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে যশোরে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় কয়েকদিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মূল্যবান জিনিসপত্রসহ লাখ লাখ টাকা হারিয়েছেন অনেকে। জেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামে গ্রামে রাতভর দলবেঁধে পাহারা দিচ্ছেন বাসিন্দারা।
গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাঘারপাড়ার জামদিয়া ইউনিয়নে একদিনের ব্যবধানে তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৭ অক্টোবর যশোর-নড়াইল সড়কসংলগ্ন করিমপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম মুন্সীর বাড়ি থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির লোকদের মাথায় ও গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে মোটরসাইকেল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। শহিদুল ইসলাম মুন্সীর ছেলে সেসময় জানান, লুট হওয়া মালামালের মূল্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।
এর একদিন আগে একই ইউনিয়নের জামদিয়া গ্রামের মো: কাসেদ আলি মোল্যার বাড়িতে প্রবেশ করে ১৪/১৫ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ দল। তারা নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৩ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে যায়। ওই রাতেই ডাকাতরা কাসেদ মোল্যার বাড়ি পাশে নওশের মোল্যার ছেলে সোহেলের বাড়ি থেকে নগদ ২ হাজার টাকা ও সোহেলের স্ত্রীর গলার চেইন ও কানের দুল নিয়ে যায়।
সঙ্গবদ্ধ ডাকাত দল হাফপ্যান্ট, কালো গেঞ্জি ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে এসব বাড়িতে ডাকাতি করেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
এছাড়া যশোরের তপসীডাঙ্গা ও মণিরামপুরের রোহিতা ভান্ডারি মোড় এলাকায় দুর্ধর্ষ দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত দল ২৯ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতে দুটি বাড়িতে হানা দিয়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় দুটি বাড়ির ক্লপ্সিবল গেট ভেঙে ঘরে ঢোকে ডাকাত দল। বাড়ির মালিককে গুরুতর জখম করে ২ ঘন্টাব্যাপী লুটপাট চালায় তারা।
হাফপ্যান্ট ও মুখোশ পরা ওই ডাকাত দলে ১০/১২ জন ছিল বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের বর্ণনা মতে দুটি বাড়িতে ডাকাতির ধরন একই। একই ডাকাত দল একই রাতে দুটি ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্য উপজেলায়ও ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দলবেঁধে রাতে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। বাঘারপাড়ার জামদিয়া, বাসুয়াড়ি, মহিরণ, দরাজহাটসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন।
পুলিশ এসব ঘটনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ঘটনা তদন্তে ও অপরাধীদের ধরতেও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
বাঘারপাড়া থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন জানান, একাধিক ঘটনা ঘটলেও একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভয়নগর থানায় ও মণিরামপুরেও একটি করে অভিযোগ জমা পড়েছে। ডাকাতি মামলায় এখন পর্যন্ত চার আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এমন সন্দেহে একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি ফিরোজ। তিনি জানান, ডাকাতির ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনায় কাজ করছেন তারা।
এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপন কুমার সরকার বলেন, স্থানীয় থানার সহযোগিতা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

