ভোলার টগবী-১ অনুসন্ধান কূপে গ্যাসের বিশাল মজুদ পাওয়া গেছে। মজুদ বিবেচনায় গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের আনুমানিক মূল্য প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। এই কূপ থেকে আগামী ৩০ থেকে ৩১ বছর গ্যাস উত্তোলন করা যাবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টবগী-১ কূপে গ্যাসের বর্ণিত মজুদ বিবেচনায় গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০৫৯ দশমিক শূন্য ৮ কোটি টাকা, যা এলএনজি আমদানি মূল্য বিবেচনায় বহুগুণ। আগামী ৭ নভেম্বর ২০২২ নাগাদ কূপটি দ্রুত উৎপাদনক্ষম করার লক্ষ্যে কূপের কমপ্লিশন ও ক্রিসমাস-ট্রি স্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
তিনি আরো বলেন, ২০২২-২০২৫ সময়কালের মধ্যে পেট্রোবাংলা মোট ৪৬টি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় গ্যাজপ্রমের মাধ্যমে গত ১৯ আগস্ট ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের টবগী-১ অনুসন্ধান কূপটি প্রায় তিন হাজার ৫০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খননের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়। মহান আল্লাহতায়ালার রহমতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিন হাজার ৫২৪ মিটার গভীরতায় খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নসরুল হামিদ বলেন, খনন-পরবর্তী কূপে সম্ভাব্য গ্যাস মজুদ ও উৎপাদন হার নিরূপণে নেওয়া কারিগরি পরীক্ষামূলক টেস্টিং (ডিএসটি) কার্যক্রম গত ১ নভেম্বর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ পরিচালিত ডিএসটি কার্যক্রমে ৩২/৬৪ ইঞ্চি চোক সাইজ ব্যবহার করে ওই কূপ থেকে গড়ে দিনে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস ফ্লো টেস্ট করা হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক।
শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে টবগী-১ কূপ এলাকাটি আনুমানিক ৩.১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভূতাত্ত্বিক তথ্যা ও ডিএসটি রিপোর্ট অনুযায়ী এ অনুসন্ধান কূপে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ প্রায় ২৩৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ)। দৈনিক গড়ে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন বিবেচনায় ওই কূপ থেকে ৩০-৩১ বছর গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় আগামী ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও দুটি কূপ (ইলিশা-১ ও ভোলানর্থ-২) খনন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে তিনটি কূপ থেকে সর্বমোট দৈনিক ৪৬ থেকে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হতে পারে।

