চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। উল্টো দাম আরো এক দফা বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজার থেকে ৫০ কেজির বস্তা সাড়ে ৫ হাজার টাকায় কিনছেন। কেজি হিসাবে দাম পড়ছে ১১০ টাকা। তবে পরিশোধনকারী কোম্পানি জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত দামে তারা চিনি সরবরাহ করছে; কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকায় চাহিদামতো চিনি উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
গতকাল সোমবার ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকায়। যদিও কয়েক দিন আগে বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। গত সেপ্টেম্বরে এ দাম ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। যদিও সরকার ৬ অক্টোবর প্রতি কেজি খোলা চিনির খুচরা মূল্য ৯০ টাকা ও প্যাকেট চিনির কেজি ৯৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
এদিকে বাজারে কিছু ব্যবসায়ী ৯৫ টাকার প্যাকেট চিনি কেটে খোলা চিনি হিসেবে ১১৫ টাকায় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত অভিযান চালিয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ভোক্তা অধিকার অধিদফতর থেকে জানা গেছে, দেশের মোট চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। প্রতিদিনের চাহিদা ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টন। আমদানিনির্ভর পণ্যটির কাঁচামালের কোনো ঘাটতি না থাকলেও কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বর্তমানে দৈনিক গড়ে উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টন। এতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে দেড় হাজার টন। আর চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় চিনির দাম বেড়েছে।
সেগুনবাগিচার মুদি দোকানদার মাসুদ মজুমদার বলেন, পাইকারি বাজারে অগ্রিম টাকা দিয়েও চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন তারা দাম বাড়াচ্ছে। সোমবার সাড়ে ৫ হাজার টাকায় প্রতি বস্তা চিনি কিনতে হয়েছে। এতে দোকান পর্যন্ত আসতে প্রতি কেজি ১১০ টাকার বেশি পড়েছে। এখন ১১৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, কিন্তু কাল হয়তো তা পারব না।
চিনির উৎপাদন ও সরবরাহ সম্পর্কে মেঘনা গ্রুপের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক তসলিম শাহরিয়ার বলেন, গ্যাস সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি। যে কারণে চাহিদামতো উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তবে যতটুকু উৎপাদন হচ্ছে, তার পুরোটাই সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথায় কার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব ভোক্তা অধিদফতরে দেয়া হচ্ছে।

