নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই নির্মাণসামগ্রী তোলার কারণে ১৫ আগষ্টে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পরেও বন্ধ হয়নি কাজ।
সোমবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে।
দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের একটি পিলারের কাজ চলমান অবস্থায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই প্রকাশ্যে রড তোলা হচ্ছে ক্রেইন দিয়ে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
ওই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ প্রচুর মানুষ যাতায়াত করে। প্রশ্ন উঠেছে এই সড়ক তাহলে চলাচলের জন্য নিরাপদ কি-না? জানতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষের জীবনের দাম নেই। এখানে সবগুলো পিলারের রডই এভাবে তোলা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, আসলে আমাদের কাজ তো এক জায়গায় নির্দিষ্ট থাকে না। ফলে নিরাপত্তা বেস্টনী দিলে, সেটি আবার তুলে সামনে নিতে সময় ব্যয় হয়। সেজন্য এভাবেই তোলা হচ্ছে রড।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালজ এইচ এম শাখাওয়াত আকতার বলেন, আমরা ১শ ভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছি। এখানে বেষ্টনী ছাড়া কাজ করার সুযোগ নেই। নো সেইফটি, নো ওয়ার্ক। আমরা বিভিন্ন মিটিং, সেমিনারে এ নিয়ে অনেক কথা বলেছি। তারপরও যদি, এমন কিছু ঘটে থাকে, আমরা ব্যবস্থা নেবো।
এ বিষয় যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যেহেতু দরপত্র নেওয়া হয়েছে তাদের নিরাপত্তা বেষ্টনী না রেখে কাজ করার সুযোগ নেই। কিন্তু এত বড় দুর্ঘটনা ঘটার পরেও যখন শাস্তি না দিয়ে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তখন এ ধরনের ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। এর দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বিআরটি কর্তৃপক্ষের বেশি।
এর আগে ১৫ আগস্ট (সোমবার) বিমানবন্দর-গাজীপুর মহাসড়কে নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার ভেঙে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরো অন্তত দুইজন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।
চলতি বছরের ১৫ জুলাই বিকেলে চান্দনা চৌরাস্তার কে চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি ফিলিং স্টেশনের সামনে গার্ডার চাপায় জিয়াউর রহমান (৩০) নামে এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। এতে এক পথচারীও আহত হন।
২০২১ সালের ১৪ মার্চ বিআরটির গার্ডার ভেঙে চারজন আহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন বিদেশিও ছিলেন।
জাগো/আরএইচএম

