বিএনপির সমাবেশের জবাব, আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আবহ তৈরি ও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা- এই তিন লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের নিয়মিত কর্মসূচি ও দলীয় সমাবেশের মাধ্যমে বড় মহড়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন দলের নেতারা।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ৩ নভেম্বর থেকে শুরু করে দিবসভিত্তিক কার্যক্রমে আওয়ামী লীগের শোডাউন চলবে। এ ছাড়া সহযোগী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দলের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে বড় শোডাউন দেবে। বিভাগীয় শহরে দলীয় সমাবেশে যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশে থাকবেন তিনি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রামে বড় সমাবেশ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। গতকাল এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কোনো পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করছি না।
আমাদের সম্মেলনের তারিখ আগেই নির্ধারিত। এটা একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিএনপির সমাবেশের পাল্টাপাল্টি নয়।’ এদিকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বিএনপিকে মাঠে নামতে দেবেন না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন। একই রকম হুশিয়ারি দিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ নানা অভিযোগ গা থেকে ঝেড়ে ফেলতেই বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী যেন হতাশ না হন, সেদিকটিও ভাবছে দলটি। সে কারণে দলীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাদের উজ্জীবিত করার কাজটি সারতে চায় ক্ষমতাসীনরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন পর বিএনপি সমাবেশ করেছে। পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেই চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরে বড় সমাগম করেছে তারা। এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবনায় নতুন খোরাক জুগিয়েছে। কিন্তু নানাবিধ বিবেচনায় তাদের বাধা দেয়া হবে না। কিন্তু বিএনপি জ্বালাও পোড়াও করলে তা মোকাবিলা করার জন্য দলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত আছেন।
জানা গেছে, ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস দিয়ে সমাবেশ শুরু করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এর পর ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস, ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ২৭ ডিসেম্বর ডা. মিলন দিবস, ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের জনসভা, ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন ও জেলা উপজেলার সম্মেলনে জনসমাবেশে গণজমায়েতের ছক তৈরি করে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ।
ইতোমধ্যে ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘বিশাল জমায়েতের’ প্রস্তুতি নিয়েছে সংগঠনটি। এ বিষয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, বিএনপিকে মোকাবিলা করতে যুবলীগ একাই যথেষ্ট।
শনিবার এক অনুষ্ঠানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তাতে রাজনৈতিক শক্তি ও সামর্থ্য প্রদর্শন করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির সমাবেশ আওয়ামী লীগকে ভাবাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, হাঁকডাক দিয়ে বিএনপির সমাবেশে কত লোক হয়েছে তা দেশের মানুষ দেখেছে। আর আওয়ামী লীগের একটি জেলা উপজেলার সম্মেলনে কত লোক, তাও দেশের মানুষ দেখেছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ নিয়ে ভাবার কিছু নেই, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ডাকে বিএনপি নেতাকর্মীরা খুব বেশি দিন আসবে না। কারণ, মরীচিকার পেছনে বেশিদিন কেউ থাকে না। অচিরেই বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হতাশ হবে না, বরং আরো বেশি উজ্জীবিত হবে।

