যশোর সদর উপজেলা লেবুতলা ইউনিয়নের বীর নারায়নপুর গ্রামের সরকারি রাস্তা ২’শ ১৫ শতক জমি বর্তমানে ২৯ জন ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়েছে।
রাস্তটি ঘোষ পাড়া মাঠের মধ্যো দিয়ে শর্শনোদাহ গ্রামের পার্শ দিয়ে আলতাফ হোসেনের সবজি ক্ষেতের পাশের চলাচলের রাস্তার সাথে সংযুক্ত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৮৮ সালের রেকর্ডের সময় কিছু লোকে নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেই । তারপর তারা রাস্তা কেটে কেটে দখলে নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এখনো কিছু অংশ চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এলাকাবাসী যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর গণসাক্ষর করে ২০১৯ সালে একটা আবেদন করেন। এ আবেদকে তদন্ত করার জন্য লেবুতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার
দায়িক্ত দেন যশোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তিনি এরাস্তার সিএস, এসএ এবং আরএস খতিয়ান জেলা রেকর্ড রুম থেকে সার্টিফায় কপি সংগ্রহ করে। এসমস্ত কাগজ পত্রে দেখেন সিএস এবং এসএ খতিয়ানে এবং ম্যাপে রেকর্ড আছে সরকারি ১নং খতিয়ানে ভাগাড় হিসাবে। ১৪৩নং বীর নারায়নপুর মৌজায় ২৬ নং দাগে ৬২ সালের ম্যাপে রাস্তা বিদ্যমান রয়েছে।
উল্লেখ্য আরএস রেকর্ডে এরাস্তার জমি ২৯ জনের নামে ২’শ ১৫ শতক ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড ভুক্ত হয়। আর ৫শতক জমি আরএস রেকর্ডে রাস্তা শ্রেনী ভুক্ত এবং ৭ শতক জমি কোন খতিয়ানে রেকর্ড হয়নি। রাস্তার মোট জমির পরিমাণ ২’শ ২৭ শতক। পরবর্তিতে লেবুতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রাস্তার সমস্ত রেকর্ডের কাগজ পত্র দিয়ে যশোর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ২৯ জনের নামে মামলার জন্য আবেদন করেন।
যশোর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ মামলা রুজু করেন। যার বিবিধ মামলা নং ৮৪ এবং মামলায় বিবাদিদের হাজিরা জন্য গত বুধবার ২৬ তারিখ সকাল দশটায় দিন ধার্য ছিলো। যশোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এ মামলার বিচারক ছিলেন ।
এই মামলার বিবাদী ছিলো মোট ২৯ জন তারা হলেন কওছার আলী, নির্মলেন্দু ঘোষ, পরিমলেন্দু ঘোষ, সতীষ চন্দ্র ঘোষ, মোবারের আলী, মোশারেফ হোসেন, মোতালেব হোসেন,সাধন কুমার ঘোষ, গোবর্ধন, মদন মোহন, সতীশ চন্দ্র ঘোষ, সুনিল কুমার ঘোষ, রবীন কুমার ঘোষ, শুশান্ত কুমার ঘোষ, হাশেম আলী মোল্যা, আলতাফ হোসেন, আইয়ুব হোসেন, বিলাল হোসেন, জেলেমন নেসা, সন্তস কুমার, মনোতষ, আজীমুদ্দীন, আলতাফ হোসেন, আনজুমানরা, সুফিয়া খাতুন, জাহানারা খাতুন, উপেন্দ্র নাথ ঘোষ, জয়নাল আবেদীন এবং মিজানুর রহমান।
২৯ জনের মধ্যে উপস্থিত হয় চারজন। তারা হল রবিন ঘোষ, আলতাফ হোসেন, সজীব ঘোষ এবং ধুনা ঘোষ।
তবে বিবাদিরা তিন মাস পরে মামলার পরবর্তি দিন ধার্যের দাবি করে। এই দাবির প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আগামী মাসের ২৩ তারিখে পরবর্তি দিন ধার্য করেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সরকারি রাস্তার জমি দখলদার চক্রটি তাদের দখলে রাখতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করছে । বিভিন্ন মহলে দেনদরবারো চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
এলাকার ইসমাইল হোসেন জানান, এই জমি ৬২ সালের ম্যাপে রাস্তা রয়েছে। তাহলে তারা নিজেদের নামে রেকর্ড করে কোন সূত্রে। আমাদের মাঠে যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা নেই।
মামলার বাদী লেবুতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, বীর নারায়নপুর গ্রামের রাস্তার সমস্ত কাগজপত্র ঠিক আছে। আমরা আশা করি সরকারের পক্ষে রায় হবে। মামলার রায় হওয়ার পরে জনসাধারনে জন্য আমরা রাস্তা উন্মুক্ত করে দেবো।
যশোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা বিবাদীপক্ষকে পরবর্তী তারিখে তাদের কাগজপত্র হাজির করার কথা বলেছি। আর এরাস্তার জমি কিভাবে নিজেদের নামে রেকর্ড করেছে এবিষয়ে আমার ভালো জানা
নেই। এবিষয়ে ভালো যে যানে তার থেকে এআইন সম্পার্কে আমি জানবো।
জাগো/আরএইচএম

