সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৩৪ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা একদিনে রোগীর ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এর আগে ২২ অক্টোবর একদিনে সর্বোচ্চ ৯২২ জন হাসপাতালে ভর্তির খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ডেঙ্গুজ্বরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩ জনে।
রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৩৪ জন হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ৫৮৯ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৪৫ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সারাদেশে তিন হাজার ৪৯২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে ঢাকার ৫০টি হাসপাতালে দুই হাজার ২৮৬ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে এক হাজার ২০৬ জন ভর্তি আছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সর্বমোট ৩১ হাজার ৬৩ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা সর্বমোট ২২ হাজার ১৩ জন এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সর্বমোট নয় হাজার ৫০ জন। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২৭ হাজার ৪৫৮ জন।
রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় মহাখালীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মার্কেটে ৯৮ শয্যার ডেঙ্গু হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির হাসপাতালের উদ্বোধন করেন।
অধ্যাপক আহমেদুল কবির বলেছেন, এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি থাকে। আমাদের কয়েকটি হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। রোগী এভাবে বাড়তে থাকলে চিকিৎসা দিতে যেন কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য একটি নতুন সেল খুলেছি। ডিএনসিসির মার্কেট ভবনে ৯৮ শয্যার হাসপাতাল প্রস্তুত করা আছে। এখানে এখন পর্যন্ত ছয়জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালটিতে ১৭টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে প্রয়োজন হলে এখানে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু করা যাবে।
তিনি আরো বলেন, যেহেতু অক্টোবর মাস শেষপর্যায়ে। আশা করি নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমতে শুরু করবে।

