যশোর জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসী নিজের নাম পাল্টে সেনাবাহিনীর অবসরে যাওয়া সদস্য পরিচয়ে অন্তত দুই বছর ধরে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলো। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কারখানায় প্রহরীর কাজও জুটিয়ে নেয়। যশোরে স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও চট্টগ্রামে এক নারীকে বিয়ে করে। দশ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ওই সন্ত্রাসী এক পোশাক কর্মীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এই অপরাধের পর আর নিজেকে আড়ালে রাখতে পারেনি সে, গ্রেফতার হয়েছে র্যাবের হাতে।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকায় এক পোশাক কারখানা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার জাহিদ হাসানের (৪০) বাড়ি যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলায়। এলাকায় ‘বোমা জাহিদ’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যশোরে বাঘারপাড়া ও কোতোয়ালী থানায় ডাকাতি-মাদক ও দাঙ্গাবাজির অভিযোগে ৯টি এবং ঢাকার রমনা থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা আছে।
র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সদর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার তাহিয়াদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, যশোরের ৯টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। গ্রেফতার এড়াতে এক বছর আগে জাহিদ চট্টগ্রামে চলে আসে। নিজের নাম পাল্টে নাহিদুল ইসলাম সজিব এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও র্যাবের সাবেক সদস্য পরিচয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় প্রহরীর কাজ করতো। সর্বশেষ সিইপিজেড এলাকায় এমজেডএম নামে একটি কারখানায় কর্মরত ছিলো। ওই কারখানায় সে তিন মাস আগে যোগ দিয়েছিলো। যশোরে তার এক স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে। চট্টগ্রামে এসে আরেকটা বিয়ে করে। কিন্তু যশোরে যাতায়াত ছিলো। দুই স্ত্রী থাকার পরও জাহিদ চট্টগ্রামে এক পোশাক শ্রমিকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। গত আগস্টে তাকে বিয়ে করার কথা বলে যশোর নিজের বাড়িতে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে রেখে তাকে ধর্ষণ করে। পরে ওই নারীকে হোটেল রুমে রেখে সাথে থাকা ৩৮০০ টাকা ও সোনার চেইন নিয়ে সটকে পড়ে।
র্যাব কর্মকর্তা তাহিয়াদ আরো জানান, ওই নারী হোটেল থেকে বের হয়ে এক ট্রাফিক সদস্যের সহায়তায় রমনা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে যান। সেখানে ২ আগস্ট জাহিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলায় জাহিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল নাহিদুল ইসলাম সজিব। বাবার নাম অজ্ঞাত এবং মায়ের নাম দেয়া হয় নুপুর বেগম। যশোর পুলিশ এবং ঢাকার রমনা থানা পুলিশ তাকে পরোয়ানামূলে গ্রেফতারের চেষ্টা করছিলো।
এর মধ্যে র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের কর্মকর্তাদের কাছে পলাতক জাহিদের বিষয়ে তথ্য আসে। সে চট্টগ্রামে অবস্থান করছে বলে জানতে পারেন তারা। বিভিন্নমাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জাহিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

