কবি রুদ্রর ৬৭তম জন্মদিন আজ

আরো পড়ুন

‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের রচয়িতা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ৬৭তম জন্মদিন আজ।

১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি বরিশালের রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক। পাখির জীবনে আদিম জীবনের স্বাধীনতা খুঁজে ফিরেছিলেন তিনি। যেখানে অন্যায়, যেখানে অবিচার, সেখানেই ঝলসে উঠেছে তার লেখনী। ছিন্ন করতে চেয়েছেন সব অচলায়তনের বেড়াজাল। আশির দশকে তার কাব্যিক প্রতিবাদ ঝড় তুলেছিল বাংলার চিরায়ত সাহিত্য ভুবনের আকাশে।

তিনি লিখেছেন- ‘বন্ধন মানে তবে কি শুধুই কারাগার শৃঙ্খল? পাখির জীবন তবে কি সত্য হবে না মানবপুরে?হবে না কখনো স্বাধীন যেমন আদিম জীবন ছিলো?’

আবার তার ‘যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক, সে মাঠে আজ বসে নেশার হাট’ কিংবা ‘আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই’ ছিল বাংলার প্রতিবাদী তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক।

টালমাটাল ৭০-এর দশকে সমাজ ও রাজনীতির উত্থান-পতনে ত্যাগ ও প্রাপ্তি, ধ্বংস আর নির্মাণ, প্রত্যাশা আর আশাভঙ্গের অনিবার্য অস্থিরতার সময়টিতে যারা কলম চালিয়েছিলেন, যারা সেই সময়টাকে আত্মোপলব্ধি ও সৃষ্টিশীল উন্মাদনায় ভাস্বর করে তুলেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

তিনি একইসঙ্গে ‘প্রতিবাদী’ আবার ‘রোমান্টিক কবি’। তিনি লিখেছেন, ‘উপদ্রুত উপকূল’, ‘ফিরে পাই স্বর্ণগ্রাম’, ‘মানুষের মানচিত্র’, ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’। আবার প্রতিবাদী হয়ে তিনিই লিখেছেন, ‘ছোবল’, ‘গল্প’ ও ‘মৌলিক মুখোশ’। নাট্যকাব্য হিসেবে লিখেছেন ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’।

আবেগ আর প্রতিবাদের ভাষার অপরূপ মিশ্রণে লিখে গেছেন দুই হাতে। তিনি লিখেছেন সাতটি কাব্যগ্রন্থসহ পাঁচ শতাধিক কবিতা, একটি কাব্যনাট্য, অর্ধশতাধিক গান ও বেশকিছু ছোটগল্প। ‘মনুষ্য জীবন’ নামে একটি বড়গল্পও লিখেছেন তিনি।

পঁয়ত্রিশ বছরেরও কম সময় তিনি বেঁচে ছিলেন। ১৯৯১ সালের ২১ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জাগো/আরএইচএম

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ