নিহত তিন বন্ধুর দাফন সম্পন্ন, এলাকায় শোকের মাতম

আরো পড়ুন

যশোর প্রতিনিধি
‘কলেজে যাওয়া আসার সুবিধাতে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছি। যাতে পড়াশুনার সুবিধা হয়। আজ আমার সেই শখের মোটরসাইকেল আমার সালমানের জীবন কেড়ে নিলো।’ কথাগুলো বলছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সালমানের পিতা আলমগীর হোসেন।

গত শুক্রবার বিকেলে ঝিকরগাছার গদখালিতে ঘোরার উদ্দেশ্যে পাচঁ বন্ধু দুটি মোটরসাইকেল যোগে বের হয়। দুই বন্ধু বাড়িতে ফিরে আসলেও বাড়িতে ফেরেনি অপর তিন বন্ধু।

এদিন রাত ৯টার দিকে ঝিকরগাছা থেকে ফেরার পথে নতুনহাট স্টোন ভাটার সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলে আসিফ (১৯) ও আরমান (১৯) দুই বন্ধু নিহত হন। অপর বন্ধু সালমানকে (২০) স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে নিহতদের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাজা তিনটি প্রান অকালে ঝরে যাওয়ায় নিস্তব্ধ পুরো গ্রাম।

নিহতরা হলেন-যশোর সদরের এড়েন্দা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আসিফ (১৯), দূর্গাপুর গ্রামের নাজির আলীর ছেলে আরমান (১৯) ও একই গ্রামের আলমীগর হোসেনের ছেলে সালমান হোসেন (২০)। নিহত আরমান ও সালমান নতুনহাট পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং আসিফ বাড়ির পাশে বাজে দূর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে আর পড়াশোনা করেননি।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে তিন বন্ধুর মরদেহ দূর্গাপুর ও এড়েন্দা গ্রামে নিহতদের নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার ভোর হতে না হতেই নিহতদের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব এবং গোটা এলাকাবাসীর ঢল পড়ে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় যেন কাউকে সান্তনা দেবার ভাষা পাচ্ছিলেন না।

সরজমিনে শনিবার সকালে দূর্গাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি চারটি বাড়ির মধ্যে দুটি বাড়ির মধ্যে উঠানে খাটিয়ায় রাখা ছিল দুই বন্ধুর মরদেহ। অন্যদিকে পার্শবর্তী এড়েন্দা গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে রাখা ছিল অপর বন্ধু আসিফের মরদেহ। নিহত সালমানের মা বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন কিছুক্ষণ পর পর হারিয়ে ফেলছেন জ্ঞান। অন্যদিকে সালমানের বাবা আলমগীর হোসেন বুক চাপড়িয়ে চাপড়িয়ে ছেলেকে হারানোর আহাজারি করছিলেন।

কান্নাসরে সালমানের বাবা বলেন, গত কিছুদিন ধরে আমার ছেলে খারাপ সঙ্গে ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছিল। আমি বাহিরে কাজে ব্যাস্ত থাকায় আমার ছেলেকে শাসন করতে পারিনি, যার ফলে আমার আজ এই পরিনতি। কোন বাবারা যেন এমন ভুল না করে।’

তিনি গ্রামবাসীর প্রতি অনুরোধ করে বলেন, কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেকে যেন হাতে মোটরসাইকেল তুলে না দেয়া হয়। তাহলে আমার মতো আপনাদেরও একদিন সন্তান হারানোর বেদনা ভোগ করতে হবে।’ অন্যদিকে আসিফ ও আরমানের বৃদ্ধ বাবারা কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

আসিফের মরদেহ এদিন সকাল ১০টার দিকে এড়েন্দা মসজিদে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। অন্যদিকে সালমান ও আরমান দুই বন্ধুর ১১টার দিকে শৈশবের সৃতি জড়ানো বাজে দূর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দুই বন্ধুকে দাফন করা হয়।

জানাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলে দেয়াড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। জানাযা অনুষ্ঠানে কয়েকগ্রামের মুসল্লীরা অংশগ্রহণ করেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ