‘বিতর্কিত’ চেয়ারম্যান সেলিমের জামিন শুনানি ১২ অক্টোবর

আরো পড়ুন

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চাঁদপুরের ‘বিতর্কিত’ চেয়ারম্যান সেলিম খানের মামলার জামিন শুনানির জন্য আগামী ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। একইসঙ্গে ওই দিন দুদককে অনুসন্ধান প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। আদালতের দেওয়া আদেশে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সেলিম খান যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকবেন।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আছাদুজ্জামানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন বালুখেকো হিসেবে পরিচিত সেলিম খান। অন্যদিকে দুদক জামিনের বিরোধিতা করে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে আগাম জামিন দেন। পরে তা স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুদক। পরবর্তীতে গত ২১ সেপ্টেম্বর সেলিম খানের জামিন স্থগিত করে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন চেম্বার আদালত।

গত ১ আগস্ট সেলিম খানের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ মামলাটি দায়ের করেন।

দুদক জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেলিম খানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী চায় দুদক। সেলিম খান ৬৬ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব জমা দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন সভায় সেলিম খানের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সেলিম খান অবৈধ উপায়ে ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতি পূর্ণভাবে নিজ ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া তিনি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সেলিম খান যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছেন, তা যাচাই-বাছাই করে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মৌজায় সেলিম খানের ১৯ দশমিক ৮৯ একর জমি, ঢাকার কাকরাইলে আজমিন নামে একটি পাঁচতলা ভবন, কাকরাইলে ৭১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় ১০ তলা বাড়িসহ মোট ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৩২ হাজার ২১ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া, তার ছয়টি ড্রেজার, তিনটি প্রাইভেটকার, জিপ, একটি পিস্তল, একটি শটগান, আসবাবপত্র, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদি, নয়টি সিনেমা নির্মাণ ও আমদানিতে বিনিয়োগ, ৫৮টি সিনেমা নির্মাণে অনুমতির নিবন্ধন ফি জমা, ব্যাংক হিসাবে জমা ও হাতে নগদসহ আরো ১১ কোটি ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়, স্থাবর ও অস্থাবর মিলে সেলিম খানের ৩৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। পারিবারিক ও অন্যান্য বাবদ রয়েছে এক কোটি ছয় লাখ ৩৮ হাজার ৩১০ টাকা। এসব সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য চার কোটি ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৭৬ টাকা আয়ের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলেও বাকি ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ